সিংড়ায় ২০ বছরের চলাচলের পথে প্রাচীর, অবরুদ্ধ সাত পরিবার

- ৬:০১ পিএম | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | মঙ্গলবার
নাটোরের সিংড়ায় প্রায় ২০ বছর ধরে সাতটি পরিবারের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত একটি পথ বন্ধ করে ইটের প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী আয়াত আলী ও তাঁর ছেলেদের বিরুদ্ধে। এতে বিকল্প পথের ওপর নির্ভরশীল হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পরিবারগুলোর সদস্যরা।
ঘটনাটি উপজেলার ছাতারদিঘী ইউনিয়নের কালীগঞ্জ বাজার এলাকায়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা যে পথ দিয়ে চলাচল করতেন, সম্প্রতি সেখানে প্রাচীর ও দরজা নির্মাণ করে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে সাবেক সেনাসদস্য মাহবুবুর রহমান, কালীগঞ্জ বনমালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেনসহ সাতটি পরিবারের সদস্যরা সমস্যায় পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী জিহাদ আলী শেখের সহায়তায় পরিবারগুলো বর্তমানে একটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে। তবে জিহাদ আলী মালামালের ব্যবসা করায় নিরাপত্তার স্বার্থে রাত ৮টার দিকে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর ওই পরিবারগুলোর বাইরে যাতায়াতের কার্যকর কোনো পথ থাকে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
তাঁদের অভিযোগ, বিরোধ নিরসনে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। আয়াত আলী ও তাঁর ছেলেদের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার, চলাচলের পথ বন্ধ করা, হুমকি দেওয়া এবং বসতবাড়ির নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তাঁরা।
এ ছাড়া আয়াত আলীর কয়েকজন সন্তান যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের এ অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
সাবেক সেনাসদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, ২০১৮ সালে আমি স্থায়ীভাবে মার্কেট নির্মাণ করি। ২০১৯ সালে জমি পরিমাপের পর রাস্তা বাদ দিয়ে পাঁচ ফুট জায়গা তাঁর সীমানায় যায়। তখন মানবিক বিবেচনায় শূন্য দশমিক ৫৫ শতক জায়গা তাঁর কাছে বিক্রি করে দিই। প্রায় দেড় বছর আগে তিনি আমার জায়গাসহ রাস্তা দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন বলে আমার অভিযোগ। নিষেধ করার পরও সম্প্রতি চলাচলের পথ পুরোপুরি বন্ধ করতে প্রাচীর ও দরজা নির্মাণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত এক বছর ধরে দোতলার নির্মাণকাজ করতে পারছি না। শ্রমিকদের হুমকি দেওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের কারণে কেউ কাজ করতে আগ্রহী হচ্ছেন না। আমি সরকারের কাছে ন্যায়বিচার চাই।
কালীগঞ্জ বনমালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমি কোনো বিরোধ চাই না, শান্তিতে থাকতে চাই। কিন্তু চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা দুর্ভোগে পড়েছি। বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান চাই।
অভিযোগের বিষয়ে আয়াত আলী দাবি করেন, তাঁর বাড়ির সীমানায় তিন ফুট জায়গা রয়েছে। তবে সাত পরিবারের দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ বন্ধ করে সেখানে প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি।
ছাতারদিঘী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আব্দুল মমিন সরকার ও আব্দুল জলিল বলেন, উভয় পক্ষকে দ্রুত আলোচনায় বসিয়ে বিষয়টির সমাধান করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধ চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। উভয় পক্ষকে আইন ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।





















