শিক্ষা প্রশাসনে ‘প্রভাব বিস্তার ও বদলি-বাণিজ্যের’ অভিযোগে আলোচনায় অধ্যাপক এস. এম. কামাল উদ্দিন হায়দার

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা
  • ৮:৪৮ পিএম | ২৬ মে ২০২৬ | মঙ্গলবার
শিক্ষা প্রশাসনে ‘প্রভাব বিস্তার ও বদলি-বাণিজ্যের’ অভিযোগে আলোচনায় অধ্যাপক এস. এম. কামাল উদ্দিন হায়দার

শিক্ষা প্রশাসনে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার, রাজনৈতিক সুবিধাভোগ এবং বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগে আলোচনায় এসেছেন অধ্যাপক এস. এম. কামাল উদ্দিন হায়দার। শিক্ষা ক্যাডারের একাধিক কর্মকর্তার অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী পদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রশাসনে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক সরকারের আমলে তিনি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে উপসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এ সহকারী পরিচালক ও যুগ্ম পরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পান। শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন সূত্রের দাবি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি তৎকালীন একাধিক শিক্ষামন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

শিক্ষা ক্যাডারের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সময় থেকেই তিনি প্রশাসনে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরবর্তীতে ডা. দীপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সময়েও তার প্রভাব বজায় ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষা প্রশাসনে বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীরা দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি ডিআইএ-এর পরিদর্শক পদেও দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে সরকারি তিতুমীর কলেজে পদায়ন লাভ করেন। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি তিনি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে গত ১৯ মে ২০২৬ তারিখে বোর্ডের সচিব পদে পদায়ন লাভ করেন। এই পদায়ন নিয়েও শিক্ষা প্রশাসনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

কয়েকজন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তার অভিযোগ, তিনি তার আপন ভাই প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জিয়া হায়দারের পরিচয় ব্যবহার করে শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করছেন। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে প্রশাসনে সুবিধা নেওয়ার সংস্কৃতি এখনও অব্যাহত রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক এস. এম. কামাল উদ্দিন হায়দারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মন্তব্যের জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি।

শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ শিক্ষা খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। তারা প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও মেধাভিত্তিক পদায়নের দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

শিক্ষা প্রশাসনে ‘প্রভাব বিস্তার ও বদলি-বাণিজ্যের’ অভিযোগে আলোচনায় অধ্যাপক এস. এম. কামাল উদ্দিন হায়দার

৮:৪৮ পিএম | ২৬ মে ২০২৬ | মঙ্গলবার

শিক্ষা প্রশাসনে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার, রাজনৈতিক সুবিধাভোগ এবং বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগে আলোচনায় এসেছেন অধ্যাপক এস. এম. কামাল উদ্দিন হায়দার। শিক্ষা ক্যাডারের একাধিক কর্মকর্তার অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী পদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রশাসনে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক সরকারের আমলে তিনি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে উপসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এ সহকারী পরিচালক ও যুগ্ম পরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পান। শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন সূত্রের দাবি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি তৎকালীন একাধিক শিক্ষামন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

শিক্ষা ক্যাডারের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সময় থেকেই তিনি প্রশাসনে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরবর্তীতে ডা. দীপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সময়েও তার প্রভাব বজায় ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষা প্রশাসনে বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীরা দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি ডিআইএ-এর পরিদর্শক পদেও দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে সরকারি তিতুমীর কলেজে পদায়ন লাভ করেন। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি তিনি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে গত ১৯ মে ২০২৬ তারিখে বোর্ডের সচিব পদে পদায়ন লাভ করেন। এই পদায়ন নিয়েও শিক্ষা প্রশাসনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

কয়েকজন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তার অভিযোগ, তিনি তার আপন ভাই প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জিয়া হায়দারের পরিচয় ব্যবহার করে শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করছেন। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে প্রশাসনে সুবিধা নেওয়ার সংস্কৃতি এখনও অব্যাহত রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক এস. এম. কামাল উদ্দিন হায়দারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মন্তব্যের জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি।

শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ শিক্ষা খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। তারা প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও মেধাভিত্তিক পদায়নের দাবি জানিয়েছেন।