ডেঙ্গু রোগীর শয্যায় নেই মশারি, পাশেই সাধারণ রোগী

- ১০:৩৭ পিএম | ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | মঙ্গলবার
কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের পাশের শয্যায় সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কয়েকজন ডেঙ্গু রোগীর শয্যায় মশারি না থাকায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালের চতুর্থ তলার পেয়িং ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, ডেঙ্গু ও অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা একই ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কয়েকজন ডেঙ্গু রোগীর শয্যায় মশারি টাঙানো ছিল না। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে তাদের মশারি দেওয়া হয়নি। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, মশারি দেওয়া হলেও গরমের কারণে অনেক রোগী তা ব্যবহার করেন না।
করিমগঞ্জ থেকে আসা ডেঙ্গু রোগীর স্বজন সুফিয়া আক্তার বলেন, তার ছেলেসহ কয়েকজন রোগী হাসপাতাল থেকে মশারি পাননি। অন্যদিকে সাধারণ রোগী আবদুল মান্নান জানান, ডেঙ্গু রোগীদের পাশে থাকায় তিনিও আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।
হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, কম জনবল নিয়ে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড এবং পৃথক চিকিৎসক ও নার্স থাকলে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।
হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, স্থান সংকুলান না হওয়ায় ডেঙ্গু ও সাধারণ রোগীদের পৃথক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। রোগী ও স্বজনদের কাউন্সেলিং করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য হাসপাতালটিতে ৫০টি শয্যা সংরক্ষণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ও নারী রোগীদের জন্য ২৫টি করে শয্যা রাখার কথা বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কিশোরগঞ্জে নতুন করে ৪৭ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৪ জন। চলতি বছরে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় মোট ১ হাজার ৩২১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ২৯ জন রোগী শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।





















