০৩:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫

বন্ধু মোদিকেও ছাড় দিলেন না ট্রাম্প, ভারতের পণ্যের ওপর শতভাগ শুল্ক

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:৪৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫
  • / ৭ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকলেও বাণিজ্য নীতিতে কোনও ছাড় দিলেন না যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতের ‘অত্যন্ত অন্যায়’ শুল্ক নীতির কড়া সমালোচনা করে দেশটির পণ্যের ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

গত ৫ মার্চ কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, ভারতের শুল্ক নীতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘অত্যন্ত অন্যায়’। তিনি জানান, আগামী ২ এপ্রিল থেকে ভারতীয় পণ্যের ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপ করা হবে। ‘শুল্কমুক্তি দিবস’ (লিবারেশন ডে ট্যারিফ) পরিকল্পনার অধীনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট নিশ্চিত করেছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের নতুন নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ভারতসহ অন্যান্য দেশগুলোর শুল্ক নীতির প্রতিফলন ঘটাবে। অর্থাৎ, যেসব দেশ মার্কিন পণ্যের ওপর যে হারে শুল্ক আরোপ করবে, যুক্তরাষ্ট্রও তাদের পণ্যের ওপর একই হারে শুল্ক আরোপ করবে।

রিসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ বা পাল্টাপাল্টি শুল্ক ব্যবস্থার আওতায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন লেভিট। তিনি বলেন, ‘অন্যায্য বাণিজ্য রীতিনীতি’ বন্ধ হওয়া জরুরি। তার ভাষায়, ভারত ইতোমধ্যে আমেরিকান পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে, তাই এবার ভারতীয় পণ্যের ওপরও একই হারে শুল্ক বসানো হবে।

এই শুল্ক নীতির ঘোষণাটি এমন এক সময় এসেছে, যখন ট্রাম্প অন্যান্য দেশগুলোর ওপরও পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ২ এপ্রিল ঘোষিত শুল্কের মধ্যে দেশভিত্তিক এবং সেক্টরভিত্তিক শুল্কের কথাও উল্লেখ থাকবে।

লেভিট আরও জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, জাপান এবং কানাডার উচ্চ শুল্কের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমেরিকান দুগ্ধজাত পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, জাপান আমেরিকান চালের ওপর ৭০০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে, ভারত আমেরিকান কৃষিপণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে এবং কানাডা আমেরিকান মাখন ও পনিরের ওপর প্রায় ৩০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে।

এ ধরনের উচ্চ শুল্কের ফলে মার্কিন পণ্য বাজারে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং এর ফলে বহু আমেরিকান ব্যবসা এবং কর্মসংস্থান হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেন লেভিট।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বন্ধু মোদিকেও ছাড় দিলেন না ট্রাম্প, ভারতের পণ্যের ওপর শতভাগ শুল্ক

আপডেট সময় ১০:৪৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫

ডেস্ক রিপোর্ট : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকলেও বাণিজ্য নীতিতে কোনও ছাড় দিলেন না যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতের ‘অত্যন্ত অন্যায়’ শুল্ক নীতির কড়া সমালোচনা করে দেশটির পণ্যের ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

গত ৫ মার্চ কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, ভারতের শুল্ক নীতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘অত্যন্ত অন্যায়’। তিনি জানান, আগামী ২ এপ্রিল থেকে ভারতীয় পণ্যের ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপ করা হবে। ‘শুল্কমুক্তি দিবস’ (লিবারেশন ডে ট্যারিফ) পরিকল্পনার অধীনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট নিশ্চিত করেছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের নতুন নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ভারতসহ অন্যান্য দেশগুলোর শুল্ক নীতির প্রতিফলন ঘটাবে। অর্থাৎ, যেসব দেশ মার্কিন পণ্যের ওপর যে হারে শুল্ক আরোপ করবে, যুক্তরাষ্ট্রও তাদের পণ্যের ওপর একই হারে শুল্ক আরোপ করবে।

রিসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ বা পাল্টাপাল্টি শুল্ক ব্যবস্থার আওতায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন লেভিট। তিনি বলেন, ‘অন্যায্য বাণিজ্য রীতিনীতি’ বন্ধ হওয়া জরুরি। তার ভাষায়, ভারত ইতোমধ্যে আমেরিকান পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে, তাই এবার ভারতীয় পণ্যের ওপরও একই হারে শুল্ক বসানো হবে।

এই শুল্ক নীতির ঘোষণাটি এমন এক সময় এসেছে, যখন ট্রাম্প অন্যান্য দেশগুলোর ওপরও পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ২ এপ্রিল ঘোষিত শুল্কের মধ্যে দেশভিত্তিক এবং সেক্টরভিত্তিক শুল্কের কথাও উল্লেখ থাকবে।

লেভিট আরও জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, জাপান এবং কানাডার উচ্চ শুল্কের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমেরিকান দুগ্ধজাত পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, জাপান আমেরিকান চালের ওপর ৭০০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে, ভারত আমেরিকান কৃষিপণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে এবং কানাডা আমেরিকান মাখন ও পনিরের ওপর প্রায় ৩০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে।

এ ধরনের উচ্চ শুল্কের ফলে মার্কিন পণ্য বাজারে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং এর ফলে বহু আমেরিকান ব্যবসা এবং কর্মসংস্থান হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেন লেভিট।