শাওয়ালের ছয় রোজায় পুরো বছরের রোজার সওয়াব

- আপডেট সময় ১১:০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫
- / ১০ বার পড়া হয়েছে
পবিত্র রমজান মাস ছিল মুমিনদের জন্য ইবাদতের বিশেষ মৌসুম। এই মাসের আমলগুলো যেন সারা বছর অব্যাহত থাকে, সেটাই রমজানের অন্যতম শিক্ষা। এভাবে রোজার সামর্থ্য দেওয়ার জন্য মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা হয়। পবিত্র কোরআনে রোজা ফরজ হওয়ার নির্দেশনার পরই আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের কথা বলা হয়েছে:
“যাতে তোমরা সৎপথে পরিচালিত হওয়ার জন্য আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করো এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।”
(সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫)
রবের প্রতি শুকরিয়ার আমল
কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অন্যতম উপায় হলো নেক আমল চালিয়ে যাওয়া। এ ক্ষেত্রে রমজানের পর শাওয়াল মাসের ছয় রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে এই রোজা রাখতেন এবং সাহাবাদেরও তা পালনের তাগিদ দিতেন।
হজরত আবু আইউব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন,
“যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল এবং এরপর শাওয়ালের ছয় রোজা রাখল, সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল।”
(মুসলিম, হাদিস: ১১৬৪)
ছয় রোজায় গোটা বছরের সওয়াব
রমজানের ৩০ রোজার সঙ্গে শাওয়ালের ছয় রোজা যোগ করলে মোট ৩৬ রোজা হয়। আল্লাহ তাআলা প্রতিটি নেকির সওয়াব কমপক্ষে ১০ গুণ বাড়িয়ে দেন। তাই ৩৬ রোজাকে ১০ গুণ করলে ৩৬০ দিনের সমতুল্য সওয়াব পাওয়া যায়, যা পুরো এক বছরের রোজার সমান।
হজরত সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন,
“নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব ১০ গুণ বাড়িয়ে দেন। তাই রমজানের রোজা ১০ মাসের সমান, আর শাওয়ালের ছয় রোজা ৬০ দিনের (২ মাসের) সমতুল্য। এভাবে মোট ১২ মাস পূর্ণ হয়।”
(নাসায়ি: ২/১৬২)
রমজানের রোজার ত্রুটি পূরণ
নফল ইবাদত ফরজের ত্রুটি-বিচ্যুতি পূরণ করে। শাওয়ালের ছয় রোজা রমজানের রোজার ঘাটতি দূর করতে সহায়ক। নামাজের ক্ষেত্রে হাদিসে এসেছে—
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন,
“কিয়ামতের দিন বান্দার ফরজ নামাজের হিসাব প্রথমে নেওয়া হবে। যদি তা পূর্ণ হয়, তবে সে সফল। আর যদি কম থাকে, আল্লাহ বলবেন: দেখো, আমার বান্দার কোনো নফল নামাজ আছে কি? যদি থাকে, তা দিয়ে ফরজের ঘাটতি পূরণ করো। অন্যান্য ফরজের ক্ষেত্রেও একইভাবে হিসাব নেওয়া হবে।”
(তিরমিজি, হাদিস: ৪১৩)
ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) বলেন, “শাওয়ালের ছয় রোজার মধ্যে গভীর রহস্য রয়েছে। এটি রমজানের রোজার পরিপূরক হিসেবে কাজ করে এবং রোজার ত্রুটিগুলো দূর করে দেয়। এটা ফরজ নামাজের পর সুন্নত বা নফল আদায়ের মতো, কিংবা নামাজে ভুল হলে সিজদায়ে সাহু দেওয়ার সমতুল্য।”
কীভাবে রাখবেন?
শাওয়াল মাসের যেকোনো দিন এই ছয় রোজা রাখা যায়। একসঙ্গে বা বিরতি দিয়ে—যেভাবে সম্ভব। তবে নেক আমলে দ্রুততা প্রদর্শন করা উত্তম। তাই মাসের শুরুতেই রোজাগুলো আদায় করে নেওয়া ভালো।