কিরগিজস্তান থেকে প্রতারণার শিকার ১৮০ প্রবাসী দেশে ফিরলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা
  • ৫:৩১ পিএম | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | বুধবার
কিরগিজস্তান থেকে প্রতারণার শিকার ১৮০ প্রবাসী দেশে ফিরলেন

পোশাক শিল্প ও নির্মাণ খাতে ভালো বেতনের চাকরির লোভ দেখিয়ে কিরগিজস্তানে গিয়ে সেখানে কাজ না পাওয়া ও প্রতারণার শিকার হওয়া ১৮০ বাংলাদেশি নাগরিক বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভোরে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

ফেরত আসা প্রবাসীদের বিমানবন্দরে অর্থ ও জরুরি সহায়তা প্রদান করেছে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক এবং সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ে।

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান জানান, “বিদেশে বেশি বেতনের কাজের লোভ দেখিয়ে এই মানুষগুলোকে কিরগিজস্তানে নেওয়া হয়েছিল। অথচ সেখানে গিয়ে অনেকে কাজ পাননি, বেতন পাননি, ফলে নথিপত্রহীন হয়ে পড়েন। অনেকে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হন। অনেকের পরিবার মুক্তিপণ দিতেও বাধ্য হয়েছে।”

ফেরত আসা প্রবাসীদের মধ্যে লালমনিরহাটের আদিতমারীর মো. শহীদুল ইসলাম (৪৫) জানান, ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করে বেশি বেতন পাবেন এই আশায় ২০২৪ সালের ৩ জুন বিশকেক পৌঁছানোর পর পরের দিনই তার ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যায়। এরপর সেখানে নানা কাজ করে টিকে থাকার চেষ্টা করেন, বেতন ছাড়াই সাত মাস কাজ করেন। পরে কিরগিজ কর্তৃপক্ষের কাছে ধরা দেন এবং তিন মাস জেল খেটেই দেশে ফিরেছেন।

শরীয়তপুরের সখীপুরের প্রিন্স মিয়া (২১) জানান, ইউরোপ পাঠানোর কথা বলে তাকে দুবাই নিয়ে গিয়েছিল দালাল চক্র। সেখান থেকে ১৯ মে বিশকেক নিয়ে যাওয়া হয়। আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, কিছুদিন কাজের পরে তাকে ইতালি নেওয়া হবে। এই কাজের জন্য তিনি দালালকে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়েছেন এবং মধ্য এশিয়ার জেলে ৪৪ দিন আটক ছিলেন।

কুষ্টিয়ার মিরপুরের মো. মিলন আলী (৩৮) বলেন, ওয়েল্ডিংয়ের কাজে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পরও কোনো সহায়তা পাননি। টানা চার মাস বেতন না পাওয়ায় তিনি নিজেই সেখানকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ধরা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, তিন মাসেরও বেশি সময় কারাগারে থাকার সময় তীব্র রোদে দাঁড় করিয়ে রাখা ও নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

ব্র্যাক জানিয়েছে, বিমানবন্দরে বিদেশ-ফেরতদের জরুরি সহায়তা দিতে তারা গত আট বছর ধরে কাজ করছে। সিভিল এভিয়েশন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক, এপিবিএনসহ বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় গত আট বছরে ৩৫ হাজারেরও বেশি মানুষকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। শুধু ২০২৪ সালেই ৪০ জন প্রবাসীকে বিশ্বের নানা দেশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

মানবপাচার বিরোধী লড়াইয়ে ভূমিকা রেখে যুক্তরাষ্ট্রের টিআইপি হিরো-২০২৪ পুরস্কারে ভূষিত আল-আমিন নয়ন এবং মালয়েশিয়া থেকে ফেরত আসা রায়হান কবিরসহ একটি দল মানবিক এই কাজে যুক্ত আছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

কিরগিজস্তান থেকে প্রতারণার শিকার ১৮০ প্রবাসী দেশে ফিরলেন

৫:৩১ পিএম | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | বুধবার

পোশাক শিল্প ও নির্মাণ খাতে ভালো বেতনের চাকরির লোভ দেখিয়ে কিরগিজস্তানে গিয়ে সেখানে কাজ না পাওয়া ও প্রতারণার শিকার হওয়া ১৮০ বাংলাদেশি নাগরিক বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভোরে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

ফেরত আসা প্রবাসীদের বিমানবন্দরে অর্থ ও জরুরি সহায়তা প্রদান করেছে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক এবং সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ে।

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান জানান, “বিদেশে বেশি বেতনের কাজের লোভ দেখিয়ে এই মানুষগুলোকে কিরগিজস্তানে নেওয়া হয়েছিল। অথচ সেখানে গিয়ে অনেকে কাজ পাননি, বেতন পাননি, ফলে নথিপত্রহীন হয়ে পড়েন। অনেকে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হন। অনেকের পরিবার মুক্তিপণ দিতেও বাধ্য হয়েছে।”

ফেরত আসা প্রবাসীদের মধ্যে লালমনিরহাটের আদিতমারীর মো. শহীদুল ইসলাম (৪৫) জানান, ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করে বেশি বেতন পাবেন এই আশায় ২০২৪ সালের ৩ জুন বিশকেক পৌঁছানোর পর পরের দিনই তার ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যায়। এরপর সেখানে নানা কাজ করে টিকে থাকার চেষ্টা করেন, বেতন ছাড়াই সাত মাস কাজ করেন। পরে কিরগিজ কর্তৃপক্ষের কাছে ধরা দেন এবং তিন মাস জেল খেটেই দেশে ফিরেছেন।

শরীয়তপুরের সখীপুরের প্রিন্স মিয়া (২১) জানান, ইউরোপ পাঠানোর কথা বলে তাকে দুবাই নিয়ে গিয়েছিল দালাল চক্র। সেখান থেকে ১৯ মে বিশকেক নিয়ে যাওয়া হয়। আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, কিছুদিন কাজের পরে তাকে ইতালি নেওয়া হবে। এই কাজের জন্য তিনি দালালকে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়েছেন এবং মধ্য এশিয়ার জেলে ৪৪ দিন আটক ছিলেন।

কুষ্টিয়ার মিরপুরের মো. মিলন আলী (৩৮) বলেন, ওয়েল্ডিংয়ের কাজে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পরও কোনো সহায়তা পাননি। টানা চার মাস বেতন না পাওয়ায় তিনি নিজেই সেখানকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ধরা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, তিন মাসেরও বেশি সময় কারাগারে থাকার সময় তীব্র রোদে দাঁড় করিয়ে রাখা ও নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

ব্র্যাক জানিয়েছে, বিমানবন্দরে বিদেশ-ফেরতদের জরুরি সহায়তা দিতে তারা গত আট বছর ধরে কাজ করছে। সিভিল এভিয়েশন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক, এপিবিএনসহ বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় গত আট বছরে ৩৫ হাজারেরও বেশি মানুষকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। শুধু ২০২৪ সালেই ৪০ জন প্রবাসীকে বিশ্বের নানা দেশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

মানবপাচার বিরোধী লড়াইয়ে ভূমিকা রেখে যুক্তরাষ্ট্রের টিআইপি হিরো-২০২৪ পুরস্কারে ভূষিত আল-আমিন নয়ন এবং মালয়েশিয়া থেকে ফেরত আসা রায়হান কবিরসহ একটি দল মানবিক এই কাজে যুক্ত আছেন।