অনলাইন জুয়া ও গরুর ব্যবসায় বিনিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা
  • ১:১৫ এএম | ০৬ জুন ২০২৬ | শনিবার
অনলাইন জুয়া ও গরুর ব্যবসায় বিনিয়োগ

চট্টগ্রামে ভয়ংকর এক সাইবার প্রতারণা চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। ভুক্তভোগীদের Gmail ও ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে চক্রটির মূলহোতা মো. ইকবালসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

পুলিশ জানায়, গত ৭ এপ্রিল সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা এলাকার মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন তার দোকানে অবস্থানকালে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে অস্বাভাবিক কার্যক্রম লক্ষ্য করেন। কিছুক্ষণের মধ্যে ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে চালু করলে তিনি দেখতে পান, তার ব্যবহৃত বিকাশ, নগদ এবং বিভিন্ন ব্যাংকিং অ্যাপস মোবাইল থেকে উধাও হয়ে গেছে।

এর কিছুক্ষণ পরই ইউসিবি ব্যাংকের একাধিক হিসাব থেকে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে স্থানান্তর হয়ে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরে সাতকানিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তে নামে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারক চক্রের মূলহোতা মো. ইকবালসহ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হয়।

পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ইকবালসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, চারটি মোবাইল ফোন, ১৮টি বিকাশ নিবন্ধিত সিম, আটটি ব্যাংক চেক বই এবং তিনটি ব্যাংক কার্ড উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, চক্রটি প্রথমে ভুক্তভোগীদের Gmail এবং অন্যান্য অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করত। এরপর ব্যাংকিং ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে অর্থ বিভিন্ন বিকাশ, নগদ ও ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করত। আত্মসাৎ করা অর্থ একাধিক ধাপে ঘুরিয়ে পরে অনলাইন জুয়া, গরুর ব্যবসা এবং অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগ করা হতো।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। মূলহোতা ইকবালের বিরুদ্ধে ফেনী ও নোয়াখালী জেলায় একই ধরনের প্রতারণার একাধিক মামলা রয়েছে। সহযোগী রুবেলের বিরুদ্ধেও প্রতারণা সংক্রান্ত মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এছাড়া প্রতারকরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে এক থেকে দুই হাজার টাকার বিনিময়ে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ও সিম সংগ্রহ করে অবৈধ লেনদেনের কাজে ব্যবহার করত। পরে বিভিন্ন স্থান থেকে অর্থ উত্তোলন করে তা বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হতো।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সাইবার প্রতারণা প্রতিরোধে নাগরিকদের Gmail, ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু রাখা এবং OTP বা গোপন তথ্য কারও সঙ্গে শেয়ার না করার আহ্বান জানিয়েছে।

পুলিশ বলছে, ডিজিটাল প্রতারণা প্রতিরোধে জনসচেতনতাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। কোনো ব্যক্তি সাইবার অপরাধের শিকার হলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

অনলাইন জুয়া ও গরুর ব্যবসায় বিনিয়োগ

১:১৫ এএম | ০৬ জুন ২০২৬ | শনিবার

চট্টগ্রামে ভয়ংকর এক সাইবার প্রতারণা চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। ভুক্তভোগীদের Gmail ও ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে চক্রটির মূলহোতা মো. ইকবালসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

পুলিশ জানায়, গত ৭ এপ্রিল সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা এলাকার মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন তার দোকানে অবস্থানকালে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে অস্বাভাবিক কার্যক্রম লক্ষ্য করেন। কিছুক্ষণের মধ্যে ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে চালু করলে তিনি দেখতে পান, তার ব্যবহৃত বিকাশ, নগদ এবং বিভিন্ন ব্যাংকিং অ্যাপস মোবাইল থেকে উধাও হয়ে গেছে।

এর কিছুক্ষণ পরই ইউসিবি ব্যাংকের একাধিক হিসাব থেকে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে স্থানান্তর হয়ে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরে সাতকানিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তে নামে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারক চক্রের মূলহোতা মো. ইকবালসহ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হয়।

পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ইকবালসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, চারটি মোবাইল ফোন, ১৮টি বিকাশ নিবন্ধিত সিম, আটটি ব্যাংক চেক বই এবং তিনটি ব্যাংক কার্ড উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, চক্রটি প্রথমে ভুক্তভোগীদের Gmail এবং অন্যান্য অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করত। এরপর ব্যাংকিং ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে অর্থ বিভিন্ন বিকাশ, নগদ ও ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করত। আত্মসাৎ করা অর্থ একাধিক ধাপে ঘুরিয়ে পরে অনলাইন জুয়া, গরুর ব্যবসা এবং অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগ করা হতো।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। মূলহোতা ইকবালের বিরুদ্ধে ফেনী ও নোয়াখালী জেলায় একই ধরনের প্রতারণার একাধিক মামলা রয়েছে। সহযোগী রুবেলের বিরুদ্ধেও প্রতারণা সংক্রান্ত মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এছাড়া প্রতারকরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে এক থেকে দুই হাজার টাকার বিনিময়ে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ও সিম সংগ্রহ করে অবৈধ লেনদেনের কাজে ব্যবহার করত। পরে বিভিন্ন স্থান থেকে অর্থ উত্তোলন করে তা বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হতো।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সাইবার প্রতারণা প্রতিরোধে নাগরিকদের Gmail, ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু রাখা এবং OTP বা গোপন তথ্য কারও সঙ্গে শেয়ার না করার আহ্বান জানিয়েছে।

পুলিশ বলছে, ডিজিটাল প্রতারণা প্রতিরোধে জনসচেতনতাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। কোনো ব্যক্তি সাইবার অপরাধের শিকার হলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।