ফরিদপুর-৪ আসন বিরোধে, টানা অবরোধে স্থবির ২১ জেলার যোগাযোগ

- ২:০৫ পিএম | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | বৃহস্পতিবার
ফরিদপুর-৪ আসন পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে টানা তৃতীয় দিনের মতো মহাসড়ক অবরোধ করেছে স্থানীয় জনতা। এতে রাজধানী ঢাকা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ২১ জেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ জনতা। যান চলাচল প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল ৭টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের হামিরদী ইউনিয়নের মনসুরাবাদ এলাকায় ৮০ থেকে ৯০ জন এবং আলগী ইউনিয়নের সুয়াদি এলাকায় শতাধিক মানুষ অবরোধ শুরু করে। একই সময়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পুখুরিয়া, হামিরদী ও নওয়াপাড়া এলাকায় গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন জ্বালিয়ে শতাধিক বিক্ষোভকারী সড়ক অবরোধ করেন। এর ফলে শত শত বাস, ট্রাক ও মাইক্রোবাস আটকা পড়ে যায়। সকাল সাড়ে ৭টার পর ভাঙ্গা গোলচত্বরে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নিলে পুরো অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে।
অবরোধকারীরা জানান, ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-৪ আসন থেকে কেটে ফরিদপুর-২ আসনের নগরকান্দায় যুক্ত করার গেজেট তারা মানবেন না। তাদের দাবি, “ভাঙ্গা থাকবে ভাঙ্গাতেই।” যতদিন প্রয়োজন রাস্তায় অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তারা বলেন, “জান দেব, কিন্তু অবরোধ তুলব না।”
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকিবুজ্জামান বলেন, ভোর থেকে দুটি মহাসড়কে শত শত মানুষ বসে থেকে সড়ক অবরোধ করছে। তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা সড়ক ছাড়বে না বলে জানিয়েছে। এত বড় জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ করা পুলিশের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-৪ থেকে কেটে ফরিদপুর-২ আসনের নগরকান্দায় যুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করে। এর পর থেকেই স্থানীয়রা আন্দোলনে নেমেছেন। গত কয়েক দিনে মহাসড়ক অবরোধ, মানববন্ধন এবং হাইকোর্টে রিট দায়েরের মতো নানা কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।






















