সীমান্ত উত্তেজনা পেরিয়ে অংশীদারিত্বে আস্থা খুঁজছে চীন-ভারত

- ১:১১ পিএম | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | সোমবার
দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ ও উত্তেজনা সত্ত্বেও সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিয়েছে চীন ও ভারত। দুই দেশের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, তারা আর প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার হতে চান। উত্তর চীনের বন্দরনগর তিয়ানজিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনের আঙ্গিনায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়। সাত বছর পর প্রথমবার চীন সফর করছেন নরেন্দ্র মোদি।
বৈঠকে শি জিনপিং বলেন, দুই দেশকে কৌশলগত উচ্চতা ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সম্পর্ক বিবেচনা করতে হবে। তাঁর ভাষায়, “বন্ধু হওয়াই দুই দেশের জন্য সঠিক পথ।” অপরদিকে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ভারত-চীনের মধ্যে এখন “শান্তি ও স্থিতিশীলতার পরিবেশ” বিরাজ করছে। তিনি আরও ঘোষণা দেন, ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর থেকে বন্ধ থাকা ভারত-চীন ফ্লাইট পুনরায় চালু হবে, যদিও তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি জানাননি।
তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত এবারের এসসিও সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ ২০টিরও বেশি দেশের নেতা অংশ নিয়েছেন। তবে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক আলোচনার পাশাপাশি আড়ালে ছাপ ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যে উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছেন, কারণ দিল্লি এখনও রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনছে।
অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ অব্যাহত রাখার জন্য পুতিনের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়লেও মোদি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার বার্তা দিলেন।
বর্তমানে এসসিওতে পূর্ণাঙ্গ সদস্য রাষ্ট্রের সংখ্যা ১০টি। এর মধ্যে রয়েছে রাশিয়া, পাকিস্তান ও ইরান। এছাড়া সংলাপ অংশীদার ও পর্যবেক্ষক দেশ মিলিয়ে রয়েছে আরও ১৬টি রাষ্ট্র। ২০০১ সালে চীন, রাশিয়া ও মধ্য এশিয়ার চার দেশ পশ্চিমা জোটগুলোর প্রভাব মোকাবিলার উদ্দেশ্যে এই সংগঠন গড়ে তোলে।
এ সম্মেলন ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে তিয়ানজিনে। শহরের বিভিন্ন স্থানে ঝুলছে রঙিন ব্যানার ও বিলবোর্ড, রাতের আকাশ আলোকিত করছে টাওয়ারবিল্ডিংয়ের লাইটশো। হাজারো মানুষ তা উপভোগ করতে ভিড় জমাচ্ছেন। তবে বিশ্বনেতাদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে শহরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অনেক সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে, ট্যাক্সি ও ভাড়া গাড়ির সেবা বন্ধ থাকায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষের ব্যস্ত এই শহরে চলাচল কিছুটা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তবুও ঐতিহাসিক বৈঠকের সাক্ষী হতে জনতার উৎসাহে কোনো ভাটা পড়েনি।






















