যুক্তরাষ্ট্রে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেলেন আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ১৭৩ যাত্রী

- ১:৩০ পিএম | ২৭ জুলাই ২০২৫ | রবিবার
যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড্ডয়নের ঠিক আগে ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখে পড়ে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট। রানওয়েতে থাকাকালীন বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ারে আগুন ধরে যায় এবং মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে ঘন ধোঁয়া। তবে পাইলটের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে উড্ডয়ন বাতিল করে দ্রুত যাত্রীদের বের করে আনা হয়, যার ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পান বিমানে থাকা ১৭৩ জন যাত্রী।
বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ মডেলের ফ্লাইট নম্বর ছিল এএ-৩০২৩। এটি ডেনভার থেকে ফ্লোরিডার মিয়ামি যাওয়ার কথা ছিল। তবে স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে উড্ডয়নের ঠিক আগ মুহূর্তে বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ারে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে আগুন ধরে যায়। ফলে রানওয়ের আশপাশের এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
ভয়াবহ এই ঘটনার ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। ভিডিওতে দেখা যায়, আতঙ্কিত যাত্রীরা স্লাইড ব্যবহার করে নিচে নামছেন, এবং এক পাশে বিমানের চাকায় আগুন জ্বলছে। এক যাত্রীকে দেখা গেছে—এক হাতে শিশু, আরেক হাতে লাগেজ নিয়ে নামতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে সন্তানটির উপর পড়ে যেতে। এই দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই এমন সংকটময় মুহূর্তে লাগেজের প্রতি অগ্রাধিকার দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য জরুরি সেবাদল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণভাবে নিভিয়ে ফেলা হয় বলে জানিয়েছে ডেনভার ফায়ার ডিপার্টমেন্ট। এ ঘটনায় একজন সামান্য আহত হন, তবে কারও গুরুতর চিকিৎসার প্রয়োজন হয়নি। যাত্রীদের বাসে করে টার্মিনালে পাঠানো হয়।
আমেরিকান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, ফ্লাইটের একটি চাকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই আগুন লাগে। যাত্রী ও ক্রুরা সবাই নিরাপদে বিমানের বাইরে আসতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমানে ফ্লাইটটিকে সার্ভিস থেকে প্রত্যাহার করে রক্ষণাবেক্ষণ দলের পরিদর্শনে রাখা হয়েছে।
এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)। একইসঙ্গে এটি গত পাঁচ মাসে ডেনভার বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া দ্বিতীয় বিমানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। এর আগে মার্চ মাসে ডালাসগামী আরেকটি ফ্লাইটেও আগুন ধরেছিল, যদিও তখনও সবাই নিরাপদে উদ্ধার হন।
সতর্কতা ও দ্রুত সিদ্ধান্তের কারণে এই ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানি হয়নি, তবে ফ্লাইট নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।






















