সাড়ে ৫ কোটি বৈধ ভিসাধারীর তথ্য যাচাই করছে যুক্তরাষ্ট্র

- ৪:০২ পিএম | ২৭ আগস্ট ২০২৫ | বুধবার
মার্কিন প্রশাসন বৈধ ভিসাধারী প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি বিদেশি নাগরিকের তথ্য নতুন করে যাচাই-বাছাই করছে। যদি এই যাচাই-বাছাইয়ে ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে। সম্প্রতি মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেসের (এপি) একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাধারীরা সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় থাকেন। যদি কোনো বিদেশি নাগরিককে ভিসার নিয়ম ভেঙেছে বা ভিসার যোগ্য নন বলে মনে হয়, তাহলে তার ভিসা বাতিল করা হবে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকলে তাকে বহিষ্কার করা হবে।
জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন দমনে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তবে শুধু অবৈধ নয়, অনেক ক্ষেত্রে বৈধভাবে থাকা অভিবাসীরাও মার্কিন প্রশাসনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভিসা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, জননিরাপত্তার জন্য হুমকি, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বা সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা করার মতো বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এজন্য আইনপ্রয়োগকারী বাহিনীর রেকর্ড, অভিবাসন সংক্রান্ত নথিপত্র এবং অন্যান্য তথ্য বিবেচনা করা হয়। এমনকি ভিসা দেওয়ার পর নতুন কোনো তথ্য সামনে এলে সেগুলোও যাচাই করা হয়।
এই নজরদারি প্রাথমিকভাবে ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে শুরু হয়েছিল, যা পরে আরও সম্প্রসারিত করা হয়। এর আওতায় ভিসাধারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট, নিজ দেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও অভিবাসন-সংক্রান্ত রেকর্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে মার্কিন আইন ভঙ্গের যেকোনো তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর যুক্তি অনুযায়ী, বিদেশি ট্রাকচালকেরা মার্কিন নাগরিকদের জীবনকে বিপন্ন করে তুলছেন এবং স্থানীয় চালকদের কাজ নষ্ট করছেন। এ কারণে বিদেশি ট্রাকচালকদের জন্য ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও, ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা আবেদনকারীদের ওপর নতুন নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করে চলেছে। এর মধ্যে সরাসরি সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া এবং ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের গোপনীয়তা সেটিংস বন্ধ রাখার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্যমতে, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের পর থেকে এখন পর্যন্ত ছয় হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় চার হাজার ভিসা বাতিল হয়েছে সরাসরি আইন ভঙ্গের কারণে এবং সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে বাতিল হয়েছে আরও ২০০ থেকে ৩০০ ভিসা।






















