ষাটগম্বুজ মসজিদ নির্মাণে লেগেছিল প্রায় ১২ বছর

- ২:৩২ এএম | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | রবিবার
বাংলাদেশের মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ। প্রাচীন নির্মাণশৈলী, বিশাল আয়তন ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে শতাব্দীপ্রাচীন এই স্থাপনা এখন দেশি-বিদেশি পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, মসজিদটি নির্মাণে প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর সময় লেগেছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে ‘ষাটগম্বুজ’ নামটি কীভাবে এসেছে, তা নিয়ে ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মধ্যে এখনো মতভেদ রয়েছে।
খান জাহান আলী (রহ.) পঞ্চদশ শতাব্দীতে মসজিদটি নির্মাণ করেন। এই অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের পাশাপাশি মসজিদ, দীঘি, সড়ক ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর নির্মিত স্থাপনাগুলো বাগেরহাটের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে।
১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো ‘ঐতিহাসিক মসজিদের শহর বাগেরহাট’কে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। ষাটগম্বুজ মসজিদ এই ঐতিহাসিক মসজিদ নগরীর সবচেয়ে পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর একটি।
নাম ষাটগম্বুজ হলেও মসজিদটির ছাদে মূলত ৭৭টি গম্বুজ রয়েছে। চার কোণে অবস্থিত চারটি বুরুজের ওপরের গম্বুজ যুক্ত করলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৮১টি। মসজিদের ভেতরে সারিবদ্ধভাবে স্থাপিত অসংখ্য স্তম্ভ ও খিলান এর বিশাল ছাদকে ধারণ করে রেখেছে। পুরু দেয়াল, বাঁকানো কার্নিশ ও পোড়ামাটির অলংকরণে ফুটে উঠেছে সুলতানি আমলের স্থাপত্যশৈলী।
মসজিদটির নামকরণ নিয়ে একাধিক মত প্রচলিত রয়েছে। একটি মত অনুযায়ী, এর ভেতরে থাকা ৬০টি পাথরের স্তম্ভ বা ‘খাম্বা’ থেকে প্রথমে নাম হয়েছিল ‘ষাট খাম্বুজ’। স্থানীয় উচ্চারণ ও ভাষাগত পরিবর্তনের ধারায় পরবর্তী সময়ে সেটিই ‘ষাটগম্বুজ’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।
অন্য একটি মতে, মসজিদের অসংখ্য গম্বুজ ও বিস্তৃত স্থাপত্যকাঠামোর কারণেই প্রতীকীভাবে এর নাম ষাটগম্বুজ রাখা হয়েছে। তবে নামকরণের পক্ষে নির্ভুল ঐতিহাসিক দলিল না থাকায় বিষয়টি নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়ে গেছে।
ঐতিহাসিক এই মসজিদ দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটক ও দর্শনার্থীরা বাগেরহাটে আসেন। বিদেশি পর্যটকদের কাছেও এটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় স্থাপনা। দর্শনার্থীরা মসজিদের স্থাপত্য, কারুকাজ এবং আশপাশের ঐতিহাসিক নিদর্শন ঘুরে দেখেন।
শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়েও ষাটগম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও স্থাপত্যকলার গৌরবময় সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।





















