পাহাড়ে রঙিন ফুলকপি চাষের দারুণ সম্ভাবনা, লাভও বেশি

- আপডেট সময় ১১:৩১:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫
- / ৬ বার পড়া হয়েছে
রাঙামাটির কাউখালীর ঘাগড়া ইউনিয়নের চেলাছড়া গ্রামে প্রথমবারের মতো রঙিন ফুলকপি চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
বিশেষ করে মঙ্গলদেবী চাকমা নামে একজন কৃষক দুই জাতের রঙিন ফুলকপি চাষ করে চমক সৃষ্টি করেছেন। ফুলকপিগুলোর একটির রঙ গোলাপি, অন্যটি হলুদ। এই জাতগুলোর নাম ভ্যালেন্টিনা (গোলাপি) ও ক্যারোটিনা (হলুদ)।
স্থানীয় কৃষি অফিসের দেওয়া বীজ লাগিয়ে মঙ্গলদেবী নিজেও বিশ্বাস করতে পারেননি যে, এই ফুলকপিগুলোর রঙ এমন হবে। কিন্তু দুই মাস পর যখন ফলন এলো, তখন তিনি বিস্মিত হন। একদিকে রঙিন ফুলকপিতে তার পুরো ক্ষেত রঙিন হয়ে ওঠে, অন্যদিকে সাধারণ ফুলকপির চেয়ে দ্বিগুণ দাম পান।
মঙ্গলদেবী চাকমাসহ স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, শীতকালে ফুলকপি চাষের মৌসুম হলেও ন্যায্য দাম পাওয়া যায় না। তাই তারা এবার রঙিন ফুলকপি চাষ করেছেন। এই ফুলকপিগুলোর চাহিদাও বেশ ভালো এবং সাধারণ ফুলকপির তুলনায় দামও বেশি।
শুধু রঙিন ফুলকপিই নয়, একই মাঠে কৃষকরা ব্রকলি, বাঁধাকপি ও টমেটোর মতো অন্যান্য সবজিও চাষ করেছেন। সেগুলোও ইতিমধ্যে বিক্রি করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, কাউখালী উপজেলায় এবার দুই হেক্টর জমিতে ভ্যালেন্টিনা ও ক্যারোটিনা জাতের ফুলকপি চাষ হয়েছে। সাধারণ ফুলকপি চাষের পদ্ধতিতেই একই খরচ, পরিশ্রম ও সময়ে এই ফুলকপিগুলো উৎপাদন করা যায়। তবে, বাজারমূল্য প্রায় দ্বিগুণ।
মঙ্গলদেবী চাকমা বলেন, “ফুলকপি রঙিন হতে পারে, এটা আমার জানা ছিল না। কৃষি অফিস থেকে বীজ নিয়ে লাগানোর দুই মাসের মধ্যে যখন ফলন আসে, তখন দেখি সেগুলো রঙিন। সেগুলো বিক্রি করে বাজারে ভালো দাম পেয়েছি। আগামীতেও চাষ করবো।”
রঙিন ফুলকপির সঙ্গে ব্রকলি চাষ করা কৃষক মধুসেন চাকমা জানান, “প্রতিটি রঙিন ফুলকপি ৫০-৬০ টাকা এবং ব্রকলি ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি করেছি। সাদা ফুলকপির তুলনায় রঙিন ফুলকপি ও ব্রকলিতে বেশি লাভ হয়েছে।”
কৃষক জয় সিংহ চাকমা আগামী বছরের জন্য বীজ ও অন্যান্য সহায়তা চেয়েছেন, যাতে তারা বাণিজ্যিকভাবে এই ফুলকপি চাষ করতে পারেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাসেল সরকার বলেন, “পাহাড়ে রঙিন ফুলকপি চাষের দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদেরও আগ্রহ আছে। আমরা বীজ ও সারসহ সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছি। রঙিন ফুলকপিতে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। বাণিজ্যিকভাবে চাষ বাড়াতে কৃষি বিভাগ সার্বিক সহায়তা করছে।”