তথ্য ফাঁসের দায়ে গুগলকে ৪২৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে রায়

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
  • ৪:৪০ পিএম | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | বৃহস্পতিবার
তথ্য ফাঁসের দায়ে গুগলকে ৪২৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে রায়

ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস ও গোপনীয়তা লঙ্ঘনের দায়ে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ গুনতে হচ্ছে গুগলকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোর ফেডারেল কোর্ট এক রায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ৪২৫ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

আদালতে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ ছিল, দীর্ঘ আট বছর ধরে কোটি কোটি ব্যবহারকারীর মোবাইল ডিভাইস থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে গুগল। অথচ অনেক ব্যবহারকারী তাদের গুগল অ্যাকাউন্টে ট্র্যাকিং বা নজরদারি ফিচার বন্ধ রেখেছিলেন। বাদীপক্ষের দাবি, এই তথ্য সংগ্রহ গুগলের ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি সেটিংসের নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে এবং সরাসরি ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা ভঙ্গ করেছে।

বিচারকরা মামলার তিনটি অভিযোগের মধ্যে দুইটিতে গুগলকে দায়ী করেছেন। তবে আদালত বলেছে, গুগল ‘ইচ্ছাকৃত বিদ্বেষ’ প্রদর্শন করেনি। ফলে কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক জরিমানা আরোপ করা হয়নি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ডেভিড বোইস বলেছেন, “আমরা রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট। এটি প্রমাণ করেছে, গুগল তার ব্যবহারকারীদের আস্থার সঙ্গে প্রতারণা করেছে।” যদিও মামলার শুরুতে বাদীপক্ষ ৩১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল, শেষ পর্যন্ত আদালত ৪২৫ মিলিয়ন ডলার ধার্য করে।

রায়ের পর অসন্তোষ প্রকাশ করে গুগলের মুখপাত্র হোসে কাস্তানেদা জানিয়েছেন, তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে। তার ভাষায়, “আদালতের রায় আমাদের পণ্যের কার্যপদ্ধতি সঠিকভাবে বোঝেনি। আমরা ব্যবহারকারীদের ডেটা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দিই এবং তারা যখন পার্সোনালাইজেশন বন্ধ করেন, আমরা তা সম্মান করি।”

গুগল আরও দাবি করেছে, যে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে তা ‘ব্যক্তিগত নয়’; বরং ছদ্মনাম ব্যবহার করে আলাদাভাবে সংরক্ষণ ও এনক্রিপশন করা হয়েছে। তাই এগুলো কোনোভাবেই ব্যবহারকারীর গুগল অ্যাকাউন্ট বা ব্যক্তিগত পরিচয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়।

উল্লেখ্য, এই ক্লাস-অ্যাকশন মামলা ২০২০ সালের জুলাই মাসে দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এটি ৯৮ মিলিয়ন ব্যবহারকারী ও ১৭৪ মিলিয়ন ডিভাইসকে অন্তর্ভুক্ত করে ক্লাস-অ্যাকশন হিসেবে অনুমোদন পায়। অভিযোগ অনুযায়ী, উবার, ভেনমো ও মেটার ইনস্টাগ্রামের মতো অ্যাপের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের ডেটা সংগ্রহ করছিল গুগল।

নিউজটি শেয়ার করুন

তথ্য ফাঁসের দায়ে গুগলকে ৪২৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে রায়

৪:৪০ পিএম | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | বৃহস্পতিবার

ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস ও গোপনীয়তা লঙ্ঘনের দায়ে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ গুনতে হচ্ছে গুগলকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোর ফেডারেল কোর্ট এক রায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ৪২৫ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

আদালতে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ ছিল, দীর্ঘ আট বছর ধরে কোটি কোটি ব্যবহারকারীর মোবাইল ডিভাইস থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে গুগল। অথচ অনেক ব্যবহারকারী তাদের গুগল অ্যাকাউন্টে ট্র্যাকিং বা নজরদারি ফিচার বন্ধ রেখেছিলেন। বাদীপক্ষের দাবি, এই তথ্য সংগ্রহ গুগলের ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি সেটিংসের নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে এবং সরাসরি ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা ভঙ্গ করেছে।

বিচারকরা মামলার তিনটি অভিযোগের মধ্যে দুইটিতে গুগলকে দায়ী করেছেন। তবে আদালত বলেছে, গুগল ‘ইচ্ছাকৃত বিদ্বেষ’ প্রদর্শন করেনি। ফলে কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক জরিমানা আরোপ করা হয়নি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ডেভিড বোইস বলেছেন, “আমরা রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট। এটি প্রমাণ করেছে, গুগল তার ব্যবহারকারীদের আস্থার সঙ্গে প্রতারণা করেছে।” যদিও মামলার শুরুতে বাদীপক্ষ ৩১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল, শেষ পর্যন্ত আদালত ৪২৫ মিলিয়ন ডলার ধার্য করে।

রায়ের পর অসন্তোষ প্রকাশ করে গুগলের মুখপাত্র হোসে কাস্তানেদা জানিয়েছেন, তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে। তার ভাষায়, “আদালতের রায় আমাদের পণ্যের কার্যপদ্ধতি সঠিকভাবে বোঝেনি। আমরা ব্যবহারকারীদের ডেটা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দিই এবং তারা যখন পার্সোনালাইজেশন বন্ধ করেন, আমরা তা সম্মান করি।”

গুগল আরও দাবি করেছে, যে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে তা ‘ব্যক্তিগত নয়’; বরং ছদ্মনাম ব্যবহার করে আলাদাভাবে সংরক্ষণ ও এনক্রিপশন করা হয়েছে। তাই এগুলো কোনোভাবেই ব্যবহারকারীর গুগল অ্যাকাউন্ট বা ব্যক্তিগত পরিচয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়।

উল্লেখ্য, এই ক্লাস-অ্যাকশন মামলা ২০২০ সালের জুলাই মাসে দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এটি ৯৮ মিলিয়ন ব্যবহারকারী ও ১৭৪ মিলিয়ন ডিভাইসকে অন্তর্ভুক্ত করে ক্লাস-অ্যাকশন হিসেবে অনুমোদন পায়। অভিযোগ অনুযায়ী, উবার, ভেনমো ও মেটার ইনস্টাগ্রামের মতো অ্যাপের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের ডেটা সংগ্রহ করছিল গুগল।