বন্ধুত্বের খেলায় আইনি নোটিশ ও বয়কট

- ১১:৩৮ পিএম | ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ | রবিবার
বন্ধুত্ব আর স্মৃতির বন্ধনে গড়া একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট—কিন্তু মাঠে নামার আগেই সেখানে জমেছে বিরোধের ঘন মেঘ।
‘৯৮-২০০০ ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট’ ঘিরে উঠেছে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও বৈষম্যের অভিযোগ।
পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, একদিকে যেমন পাঠানো হয়েছে আইনি নোটিশ, অন্যদিকে প্রতিবাদে পুরো টুর্নামেন্ট বয়কট করেছে একটি দল।
এসএসসি ১৯৯৮ ব্যাচের উদ্যোগে দেশব্যাপী নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজনের অংশ হিসেবেই ১৯ ডিসেম্বর ঢাকায় শুরু হয় এই ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট।
কিন্তু উদ্বোধনী দিনেই ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আয়োজকদের ভূমিকার প্রতিবাদ জানিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায় নারায়ণগঞ্জ গ্ল্যাডিয়েটর্স।
আইনি নোটিশ ও গুরুতর অভিযোগ
টুর্নামেন্ট আয়োজকদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন তৌকির আহমেদ ভূঁইয়া।
বৈধ সদস্যপদ থাকা সত্ত্বেও তাকে খেলতে বাধা দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগে তিনি অন্যতম আয়োজক ও জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত বিভাগের উপ-পরিচালক
মো. মুশফিকুল ইসলামের কাছে আইনি নোটিশ পাঠান। এর আগে আয়োজকদের বিরুদ্ধে ফুটবল আয়োজনেও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে বলে জানা গেছে।
খেলোয়াড় নিবন্ধন ঘিরে বিতর্ক
গ্রুপ পর্বে নারায়ণগঞ্জ গ্ল্যাডিয়েটর্সের প্রতিপক্ষ ছিল ‘জিনিয়াস ৯৮’। খেলা শুরুর ঠিক আগে বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসেন গ্ল্যাডিয়েটর্সের ক্রিকেটার মো. গোলাম শাহরিয়া।
‘গ্লোরিয়াস ৯৮’ দাবি করে—এই ক্রিকেটার নাকি তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। দাবির সমর্থনে দেখানো হয় মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনের একটি স্ক্রিনশট।
তবে গোলাম শাহরিয়ার বক্তব্য, “আমাকে না জানিয়ে ওই লেনদেন করা হয়েছিল।”
নারায়ণগঞ্জ গ্ল্যাডিয়েটর্সের অভিযোগ, টুর্নামেন্টের নির্ধারিত কাঠামো মেনে নিবন্ধন সম্পন্ন করার পরও আয়োজকরা মনগড়া সিদ্ধান্তে খেলোয়াড়কে মাঠের বাইরে রাখার চেষ্টা করেছেন।
এই আচরণকে ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে তারা বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়।
নিয়ম কী বলে?
উদ্বোধনী দিনে মাঠে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি নোয়াখালী এক্সপ্রেসের প্রধান কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন।
খেলোয়াড় সংক্রান্ত এই জটিলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী কোনো ক্রিকেটার যদি একটি দলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকেন,
তাহলে তিনি সেই দলেরই খেলোয়াড়। অন্য দলে খেলতে হলে অবশ্যই অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রয়োজন।”
এই নিয়ম শুধু ক্রিকেট নয়—ফুটবল, হকি কিংবা অন্যান্য খেলাতেও প্রযোজ্য। দলবদল সংক্রান্ত বিরোধে প্লেয়ার স্ট্যাটাস কমিটি যাচাই করে দেখে কোন চুক্তি বৈধ।
একাধিক ক্লাব থেকে অর্থ গ্রহণের প্রমাণ মিললে অর্থ ফেরত বা জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
কিন্তু গুরুতর অপরাধ ছাড়া কোনো খেলোয়াড়কে খেলতে বাধা দেওয়া হয় না—এটাই ক্রীড়া প্রশাসনের প্রচলিত নীতি।
প্রশ্নের মুখে আয়োজন
খেলার আয়োজন করা ফেডারেশন বা আয়োজকদের দায়িত্ব—খেলোয়াড়দের মাঠে নামার সুযোগ নিশ্চিত করা, বাধা সৃষ্টি নয়।
সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ‘৯৮-২০০০ ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট’-এর আয়োজকদের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।
বন্ধুত্বের নামে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়—সেটাই এখন দেখার বিষয়।






















