বয়স বাড়লেও হার্ট সুস্থ রাখার কার্যকর উপায়

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা
  • ৫:১৬ পিএম | ২৩ আগস্ট ২০২৫ | শনিবার
বয়স বাড়লেও হার্ট সুস্থ রাখার কার্যকর উপায়

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দুর্বল হয়ে পড়া স্বাভাবিক ঘটনা। বিশেষ করে ষাট থেকে সত্তর বছর বয়সের পর হার্ট সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে। এ সময় উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল বা হার্ট অ্যাটাকের মতো জটিল রোগ অনেকের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চললে বয়স বাড়লেও হার্টকে সুস্থ ও সক্রিয় রাখা সম্ভব।

হার্ট ভালো রাখতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা জরুরি। বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন আসে, যা অনেক সময় অজান্তেই গুরুতর রোগের কারণ হতে পারে। তাই রক্তচাপ, সুগার, কোলেস্টেরল, ইসিজি প্রভৃতি রুটিন চেকআপ করালে সমস্যা আগেভাগেই ধরা পড়ে এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া যায়।

শরীরচর্চা হার্টের জন্য অত্যন্ত উপকারী। প্রতিদিন অন্তত আধঘণ্টা হালকা ব্যায়াম যেমন হাঁটা, যোগব্যায়াম বা স্ট্রেচিং রক্তসঞ্চালন বাড়ায়, অতিরিক্ত চর্বি কমায় এবং হৃদ্‌যন্ত্রকে শক্তিশালী রাখে। একইভাবে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মানসিক অশান্তি হার্টের জন্য ক্ষতিকর। নিয়মিত মেডিটেশন, গান শোনা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো বা শখের কাজ করলে মন শান্ত থাকে এবং হৃদ্‌যন্ত্রও ভালো থাকে।

খাবার নির্বাচনে সচেতনতা হার্টের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বয়স বাড়লে তেল-মসলাযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। এর পরিবর্তে শাকসবজি, মৌসুমি ফল, ডাল, ওটস, বাদাম এবং সহজপাচ্য খাবার খাওয়া ভালো। পাশাপাশি লবণ ও চিনি কম খাওয়ার পরামর্শও দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।

ঘুম হার্টের সুস্থতার আরেকটি অপরিহার্য উপাদান। প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা গভীর ও শান্ত ঘুম না হলে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে, যা নানা রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রার ধরনই মূলত হৃদ্‌যন্ত্রের সুস্থতার নিয়ামক। তাই সঠিক ডায়েট, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং মানসিক শান্তি বজায় রাখলে ৭০ বছর বয়সের পরও হার্টকে তরতাজা ও কর্মক্ষম রাখা সম্ভব।

নিউজটি শেয়ার করুন

বয়স বাড়লেও হার্ট সুস্থ রাখার কার্যকর উপায়

৫:১৬ পিএম | ২৩ আগস্ট ২০২৫ | শনিবার

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দুর্বল হয়ে পড়া স্বাভাবিক ঘটনা। বিশেষ করে ষাট থেকে সত্তর বছর বয়সের পর হার্ট সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে। এ সময় উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল বা হার্ট অ্যাটাকের মতো জটিল রোগ অনেকের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চললে বয়স বাড়লেও হার্টকে সুস্থ ও সক্রিয় রাখা সম্ভব।

হার্ট ভালো রাখতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা জরুরি। বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন আসে, যা অনেক সময় অজান্তেই গুরুতর রোগের কারণ হতে পারে। তাই রক্তচাপ, সুগার, কোলেস্টেরল, ইসিজি প্রভৃতি রুটিন চেকআপ করালে সমস্যা আগেভাগেই ধরা পড়ে এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া যায়।

শরীরচর্চা হার্টের জন্য অত্যন্ত উপকারী। প্রতিদিন অন্তত আধঘণ্টা হালকা ব্যায়াম যেমন হাঁটা, যোগব্যায়াম বা স্ট্রেচিং রক্তসঞ্চালন বাড়ায়, অতিরিক্ত চর্বি কমায় এবং হৃদ্‌যন্ত্রকে শক্তিশালী রাখে। একইভাবে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মানসিক অশান্তি হার্টের জন্য ক্ষতিকর। নিয়মিত মেডিটেশন, গান শোনা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো বা শখের কাজ করলে মন শান্ত থাকে এবং হৃদ্‌যন্ত্রও ভালো থাকে।

খাবার নির্বাচনে সচেতনতা হার্টের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বয়স বাড়লে তেল-মসলাযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। এর পরিবর্তে শাকসবজি, মৌসুমি ফল, ডাল, ওটস, বাদাম এবং সহজপাচ্য খাবার খাওয়া ভালো। পাশাপাশি লবণ ও চিনি কম খাওয়ার পরামর্শও দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।

ঘুম হার্টের সুস্থতার আরেকটি অপরিহার্য উপাদান। প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা গভীর ও শান্ত ঘুম না হলে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে, যা নানা রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রার ধরনই মূলত হৃদ্‌যন্ত্রের সুস্থতার নিয়ামক। তাই সঠিক ডায়েট, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং মানসিক শান্তি বজায় রাখলে ৭০ বছর বয়সের পরও হার্টকে তরতাজা ও কর্মক্ষম রাখা সম্ভব।