মাস্টার্স পাস করেও চাকরি নেই: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চান শারীরিক প্রতিবন্ধী আনিছুর

- ৫:০২ পিএম | ০৫ আগস্ট ২০২৬ | বুধবার
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, দারিদ্র্য ও পারিবারিক সংকট—সব প্রতিকূলতাকে জয় করে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন কিশোরগঞ্জের আনিছুর রহমান। কিন্তু উচ্চশিক্ষা শেষ করার আট বছর পরও একটি সম্মানজনক চাকরি জোটেনি তার। একই পরিবারের শারীরিক প্রতিবন্ধী বোন আমেনা আক্তারেরও অর্থাভাবে থমকে গেছে পড়াশোনা। এখন দুই ভাই-বোনের একমাত্র প্রত্যাশা—যোগ্যতা অনুযায়ী একটি চাকরি, যাতে সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করা যায়।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চরপুমদী ইউনিয়নের শ্রীমন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা আনিছুর রহমান ২০১৮ সালে গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে দর্শন বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এরপর সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০টি চাকরির জন্য আবেদন করলেও আজ পর্যন্ত কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ পাননি বলে জানান তিনি।
শুধু চাকরির অপেক্ষাই নয়, প্রতিটি আবেদন করতে গিয়ে আর্থিক সংকটও ছিল তার নিত্যসঙ্গী। চাকরির আবেদন ফি, পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াত ও অন্যান্য ব্যয় বহন করতে হিমশিম খেতে হয়েছে পরিবারকে। জালমুড়ি বিক্রি করে সংসার চালানো বাবা নিজের সামর্থ্যের শেষটুকু দিয়ে ছেলের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন।
আনিছুরের বোন আমেনা আক্তারও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েই এইচএসসি পাস করে ডিগ্রিতে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে আর্থিক সংকটের কারণে তার পড়াশোনা আর এগোয়নি। বর্তমানে তিনিও একটি চাকরির মাধ্যমে আত্মনির্ভর হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।
দুই ভাই-বোনের জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন তাদের মা। সন্তানদের শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে কখনো বাধা হতে দেননি তিনি। কখনো কোলে, কখনো কাঁধে করে সন্তানদের স্কুলে নিয়ে গেছেন। কিন্তু ২০২২ সালে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পর পরিবারটি আরও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়।
বর্তমানে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বাবা মো. ছিদ্দিক হোসাইনও হৃদ্রোগ ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। বয়স ও অসুস্থতার কারণে আগের মতো কাজ করতে পারেন না। ফলে সংসারের দায়িত্ব অনেকটাই এসে পড়েছে আনিছুরের ওপর। সামান্য কম্পিউটারের কাজ করে যে আয় হয়, তা দিয়ে কোনোভাবে পরিবার চালানোর চেষ্টা করছেন তিনি।
আনিছুর বলেন, তারা কারও দয়া চান না। তারা শুধু এমন একটি চাকরি চান, যার মাধ্যমে নিজেরা স্বাবলম্বী হতে পারবেন এবং পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারবেন।
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে আনিছুর আশাবাদী। তিনি বলেন, যদি মাত্র এক মিনিটও সময় পান, তাহলে পরিবারের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে একটি চাকরির আবেদন জানাতে চান।
অন্যদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও জানিয়েছেন, সুযোগ হলে আনিছুরের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার চেষ্টা করা হবে।
সংগ্রামী এই ভাই-বোনের প্রত্যাশা একটাই—দয়া নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ। তাদের বিশ্বাস, সেই সুযোগ মিললে তারা নিজেদের পরিশ্রমে পরিবারকে এগিয়ে নিতে পারবেন এবং প্রয়াত মায়ের অপূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবেন।






















