রিট করা ছাত্রীকে গণধর্ষণের হুমকির ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা
  • ৭:১৮ পিএম | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | মঙ্গলবার
রিট করা ছাত্রীকে গণধর্ষণের হুমকির ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের প্রসঙ্গে হাইকোর্টে রিট করা এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঘটনার প্রেক্ষিতে দুটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি এবং ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন কমিশন দুই সদস্যের তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে, যখন ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে ওই ছাত্রী হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট সোমবার ডাকসু নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন। এরপর সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আলী হোসেন রিটকারী ছাত্রীকে ফেসবুকে ‘গণধর্ষণের’ হুমকি দেন।

এই ঘটনায় বিভিন্ন সংগঠন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানান। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে হুমকিদাতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। ছাত্রদলও ছাত্রীকে দেওয়া হুমকির প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে।

এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় তিন সদস্যের বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন সহকারী প্রক্টর মুহাম্মদ মাহবুব কায়সার, সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূইয়া ও মো. রেজাউল করিম সোহাগকে। উল্লেখযোগ্য, ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদ এবং ‘অপরাজেয় ৭১ অদম্য ২৪’ প্যানেলের সহসভাপতি পদপ্রার্থী নাইম হাসানের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই কমিটি গঠিত হয়েছে।

একই ঘটনা তদন্তে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন কমিশন দুই সদস্যের তথ্যানুসন্ধান কমিটি করেছে। এই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে আছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক কাজী মোস্তাক গাউসুল হক, এবং সদস্য হিসেবে সহকারী প্রক্টর জাহাঙ্গীর আলমকে রাখা হয়েছে। তাদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি আরও জানান, সাইবার বুলিং মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেছে এবং অনলাইন হুমকি ও সাইবার বুলিং কমানোর পরিকল্পনা তৈরি করছে।

প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, ডাকসু নির্বাচনের অনলাইন গ্রুপ ও পেজের বিরুদ্ধে অভিযোগের তথ্য বিটিআরসি এবং ডিএমপি কমিশনারকে সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া ভোটের দিন ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা, ভোট গণনা ও অনাবাসী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ভোট প্রদানের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হলে নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে কোনো বহিরাগত ভোটার উপস্থিত হতে না পারে। এছাড়া প্রথমবারের মতো অন্ধ শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

রিট করা ছাত্রীকে গণধর্ষণের হুমকির ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন

৭:১৮ পিএম | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | মঙ্গলবার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের প্রসঙ্গে হাইকোর্টে রিট করা এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঘটনার প্রেক্ষিতে দুটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি এবং ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন কমিশন দুই সদস্যের তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে, যখন ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে ওই ছাত্রী হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট সোমবার ডাকসু নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন। এরপর সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আলী হোসেন রিটকারী ছাত্রীকে ফেসবুকে ‘গণধর্ষণের’ হুমকি দেন।

এই ঘটনায় বিভিন্ন সংগঠন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানান। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে হুমকিদাতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। ছাত্রদলও ছাত্রীকে দেওয়া হুমকির প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে।

এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় তিন সদস্যের বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন সহকারী প্রক্টর মুহাম্মদ মাহবুব কায়সার, সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূইয়া ও মো. রেজাউল করিম সোহাগকে। উল্লেখযোগ্য, ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদ এবং ‘অপরাজেয় ৭১ অদম্য ২৪’ প্যানেলের সহসভাপতি পদপ্রার্থী নাইম হাসানের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই কমিটি গঠিত হয়েছে।

একই ঘটনা তদন্তে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন কমিশন দুই সদস্যের তথ্যানুসন্ধান কমিটি করেছে। এই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে আছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক কাজী মোস্তাক গাউসুল হক, এবং সদস্য হিসেবে সহকারী প্রক্টর জাহাঙ্গীর আলমকে রাখা হয়েছে। তাদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি আরও জানান, সাইবার বুলিং মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেছে এবং অনলাইন হুমকি ও সাইবার বুলিং কমানোর পরিকল্পনা তৈরি করছে।

প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, ডাকসু নির্বাচনের অনলাইন গ্রুপ ও পেজের বিরুদ্ধে অভিযোগের তথ্য বিটিআরসি এবং ডিএমপি কমিশনারকে সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া ভোটের দিন ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা, ভোট গণনা ও অনাবাসী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ভোট প্রদানের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হলে নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে কোনো বহিরাগত ভোটার উপস্থিত হতে না পারে। এছাড়া প্রথমবারের মতো অন্ধ শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।