নেত্রকোনায় পাহাড়ের পাদদেশে পতিত জমিতে ফসল চাষে কৃষকদের সাফল্য

- আপডেট সময় ১১:৩৫:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫
- / ৬ বার পড়া হয়েছে
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় পাহাড়ের পাদদেশে পতিত জমিতে বালুসহনশীল ফসল যেমন বাদাম, ভুট্টা ও মিষ্টি আলু চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।
কলমাকান্দার চন্দ্রডিঙ্গা গ্রামে পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে আসা বালি জমির উর্বরতা নষ্ট করে চাষের অনুপযোগী করে তুলেছিল। ফলে এসব জমি দীর্ঘদিন অনাবাদি পড়ে থাকত। কিন্তু এখন কৃষকরা বারসিকের গবেষণা ও প্রশিক্ষণের সহায়তায় বালি জমিতে ফসল চাষের কৌশল শিখে সফলতা অর্জন করছেন।
এ বছর এ গ্রামে ১২ জন কৃষক ২২৪ শতাংশ জমিতে বাদাম, ৪ জন ৩২ শতাংশ জমিতে ভুট্টা এবং ৬ জন ৮৮ শতাংশ জমিতে মিষ্টি আলু চাষ করেছেন।
কৃষক পরিমল রেমা বলেন, “আগে পতিত জমি থেকে কোনো আয় হতো না। এখন বাদাম, ভুট্টা ও মিষ্টি আলু চাষ করে বাড়তি আয় করছি। এ বছর ৮ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলক আখ চাষও শুরু করেছি।” সাবিনা রেমা জানান, “বালিতে ঢাকা জমিতে আগে ফসল ফলানো সম্ভব ছিল না। এখন বাদাম, ভুট্টা ও মিষ্টি আলু চাষে ভালো ফলন পাচ্ছি।”
সাদেক মিয়া বলেন, “পাহাড়ি ঢলে জমি বালুতে ঢেকে গেলেও এখন বালি সহনশীল ফসল চাষে লাভ হচ্ছে।” সুকুমার হাজং যোগ করেন, “প্রথমবার বাদাম চাষ করেছি। গাছের অবস্থা ভালো, ফলনের আশাও রাখি।”
এই উদ্যোগে পতিত জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়েছে, কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটছে এবং স্থানীয় বাজারে ফসলের সরবরাহ বেড়েছে। নারী কৃষকরাও এতে অংশ নিয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, “নেত্রকোনায় ভুট্টা ও বাদামের চাষ কম হলেও পাহাড়ি এলাকায় পানির সমস্যা থাকা জমিতে এসব ফসল ও শাকসবজি চাষের পরামর্শ দিই। বিগত বছরগুলোতে কৃষি প্রণোদনার মাধ্যমে কৃষকদের সহযোগিতা করেছি।”