গরুর মাংস-কফিসহ ২০০ পণ্যে শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা
  • ৮:২৪ পিএম | ১৫ নভেম্বর ২০২৫ | শনিবার
গরুর মাংস-কফিসহ ২০০ পণ্যে শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের

ভোগ্যপণ্যের উচ্চদামের কারণে ভার্জিনিয়া, নিউ জার্সি ও নিউ ইয়র্ক সিটির সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবি হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের এই সাফল্যে ‘খাদ্যদ্রব্যের সাশ্রয়ী মূল্য’ প্রধান ইস্যু হয়ে ওঠে।

এ অবস্থায় ট্রাম্প প্রশাসন আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, গুয়াতেমালা ও এল সালভাদরের সঙ্গে কয়েকটি ফ্রেমওয়ার্ক বাণিজ্যচুক্তি ঘোষণা করেছে, যার আওতায় এসব দেশের কিছু খাদ্য ও কৃষিপণ্যের শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে।

হোয়াইট হাউসের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন না হওয়া বা চাহিদার তুলনায় ঘাটতি থাকা পণ্যগুলোই এবার শুল্কছাড়ের তালিকায় এসেছে।

তালিকায় রয়েছে কমলা, আসাই বেরি, পাপরিকা, কোকো, সার, খাদ্যউৎপাদনের রাসায়নিক, এমনকি চার্চের কমিউনিয়ন ওয়েফারও।

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী- গরুর মাংসের দাম আগের বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি, স্টেকের দাম ১৭ শতাংশ বেশি, কলা ৭ শতাংশ এবং টমেটোর দাম ১ শতাংশ বেড়েছে।

মোট মিলিয়ে ঘরে খাওয়ার খাবারের খরচ গত সেপ্টেম্বর মাসে ২.৭ শতাংশ বেড়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা আমদানি শুল্কই খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ানোর প্রধান কারণগুলোর একটি।

আগামী বছর কোম্পানিগুলো নতুন শুল্ক পুরোপুরি ভোক্তাদের ওপর চাপালে দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

তবে স্পিরিটস পণ্যের শুল্ক কমানো হয়নি বলে হতাশা প্রকাশ করেছে ডিস্টিল্ড স্পিরিটস কাউন্সিল। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ক্রিস সুয়ংগার বলেন, স্কচ,

কনিয়াক, আইরিশ হুইস্কির মতো উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন করা যায় না।

ছুটির মৌসুমে এসব পণ্যের ওপর শুল্ক থাকা আতিথেয়তা শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আরও শুল্কছাড়ের প্রয়োজন হবে কি না এ প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, আমার মনে হয় না।

আমরা সামান্য রোলব্যাক করেছি মাত্র। কফির দাম বেশি ছিল, খুব দ্রুত কমে যাবে।

সমালোচকরা বলছেন ট্রাম্প নিজের লাগানো আগুন নিজেই নেভাচ্ছেন এবং সেটাকেই অগ্রগতি হিসেবে দেখাচ্ছেন।

শুল্ক আরোপের পর থেকেই মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, আর উৎপাদন খাত টানা কয়েক মাস ধরে সংকুচিত হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

গরুর মাংস-কফিসহ ২০০ পণ্যে শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের

৮:২৪ পিএম | ১৫ নভেম্বর ২০২৫ | শনিবার

ভোগ্যপণ্যের উচ্চদামের কারণে ভার্জিনিয়া, নিউ জার্সি ও নিউ ইয়র্ক সিটির সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবি হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের এই সাফল্যে ‘খাদ্যদ্রব্যের সাশ্রয়ী মূল্য’ প্রধান ইস্যু হয়ে ওঠে।

এ অবস্থায় ট্রাম্প প্রশাসন আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, গুয়াতেমালা ও এল সালভাদরের সঙ্গে কয়েকটি ফ্রেমওয়ার্ক বাণিজ্যচুক্তি ঘোষণা করেছে, যার আওতায় এসব দেশের কিছু খাদ্য ও কৃষিপণ্যের শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে।

হোয়াইট হাউসের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন না হওয়া বা চাহিদার তুলনায় ঘাটতি থাকা পণ্যগুলোই এবার শুল্কছাড়ের তালিকায় এসেছে।

তালিকায় রয়েছে কমলা, আসাই বেরি, পাপরিকা, কোকো, সার, খাদ্যউৎপাদনের রাসায়নিক, এমনকি চার্চের কমিউনিয়ন ওয়েফারও।

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী- গরুর মাংসের দাম আগের বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি, স্টেকের দাম ১৭ শতাংশ বেশি, কলা ৭ শতাংশ এবং টমেটোর দাম ১ শতাংশ বেড়েছে।

মোট মিলিয়ে ঘরে খাওয়ার খাবারের খরচ গত সেপ্টেম্বর মাসে ২.৭ শতাংশ বেড়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা আমদানি শুল্কই খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ানোর প্রধান কারণগুলোর একটি।

আগামী বছর কোম্পানিগুলো নতুন শুল্ক পুরোপুরি ভোক্তাদের ওপর চাপালে দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

তবে স্পিরিটস পণ্যের শুল্ক কমানো হয়নি বলে হতাশা প্রকাশ করেছে ডিস্টিল্ড স্পিরিটস কাউন্সিল। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ক্রিস সুয়ংগার বলেন, স্কচ,

কনিয়াক, আইরিশ হুইস্কির মতো উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন করা যায় না।

ছুটির মৌসুমে এসব পণ্যের ওপর শুল্ক থাকা আতিথেয়তা শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আরও শুল্কছাড়ের প্রয়োজন হবে কি না এ প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, আমার মনে হয় না।

আমরা সামান্য রোলব্যাক করেছি মাত্র। কফির দাম বেশি ছিল, খুব দ্রুত কমে যাবে।

সমালোচকরা বলছেন ট্রাম্প নিজের লাগানো আগুন নিজেই নেভাচ্ছেন এবং সেটাকেই অগ্রগতি হিসেবে দেখাচ্ছেন।

শুল্ক আরোপের পর থেকেই মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, আর উৎপাদন খাত টানা কয়েক মাস ধরে সংকুচিত হচ্ছে।