ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি হয়নি, তবে কিছুটা অগ্রগতি

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা
  • ১১:৩৯ এএম | ১৬ আগস্ট ২০২৫ | শনিবার
ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি হয়নি, তবে কিছুটা অগ্রগতি

আলাস্কায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই দীর্ঘ আলোচনাতেও ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা বা চুক্তি হয়নি। তবে দুই নেতা জানিয়েছেন, কিছু বিষয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আজ আমাদের খুব ভালো একটা বৈঠক হয়েছে। আমরা অনেক বিষয়ে একমত হয়েছি, তবে কয়েকটি বড় বিষয়ে আমরা এখনও পুরোপুরি মতৈক্যে পৌঁছাতে পারিনি। তবে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে।” তিনি বৈঠককে ‘খুবই ফলপ্রসূ‘ বললেও স্বীকার করেন যে, চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়নি।

ট্রাম্প আরও বলেন, “আমি চাই ইউক্রেনে মানুষের মৃত্যু বন্ধ হোক। যতক্ষণ পর্যন্ত চুক্তি না হচ্ছে, ততক্ষণ কোনো চুক্তি নেই, তবে আমরা অনেকখানি অগ্রগতি করেছি।” তিনি জানান, এখন এই চুক্তি সম্পন্ন করার প্রধান দায়িত্ব ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির। ট্রাম্প বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোকেও কিছুটা জড়িত হতে হবে, তবে মূল দায়িত্ব জেলেনস্কির। তিনি আশা করেন, পুতিন, জেলেনস্কি ও তার মধ্যে আরেকটি বৈঠক হবে।

বৈঠকে পুতিনের সঙ্গে একান্তে কোনো কথা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “হ্যাঁ, হয়েছে। তিনি খুব ভালো বক্তৃতা দিয়েছেন। আমার মনে হয়, তিনি চুক্তিটি করতে চান।” ট্রাম্প বলেন, একটি সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তারা একমত হতে পারেননি, যে কারণে চুক্তি হয়নি। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, চুক্তিতে পৌঁছানোর ভালো সম্ভাবনা আছে। আলোচনার অগ্রগতির বিষয়ে তিনি বলেন, এটি “৫০-৫০”, কারণ অনেক কিছুই ঘটতে পারে।

ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, “আমি সংঘাতের অবসান চাই।” তবে তিনি জোর দেন যে, সংঘাতের আগে তার “মূল কারণগুলো” দূর করতে হবে। তিনি ইউক্রেন ও ইউরোপীয় নেতাদের প্রতি এই শান্তি প্রক্রিয়ায় ‘বাধা সৃষ্টি’ না করার আহ্বান জানান। পুতিন আরও আশা প্রকাশ করেন যে, আজকের এই আলোচনা শুধু ইউক্রেন সমস্যার সমাধানই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে ব্যবসায়িক ও বাস্তববাদী সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

বৈঠকে ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটি হেগসেথ, সিআইএ পরিচালক জন রেটক্লিফসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। অন্যদিকে, পুতিনের সঙ্গে অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলৌসভ, অর্থমন্ত্রী অন্তন সিলুয়ানভসহ রুশ প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দূতরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি হয়নি, তবে কিছুটা অগ্রগতি

১১:৩৯ এএম | ১৬ আগস্ট ২০২৫ | শনিবার

আলাস্কায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই দীর্ঘ আলোচনাতেও ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা বা চুক্তি হয়নি। তবে দুই নেতা জানিয়েছেন, কিছু বিষয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আজ আমাদের খুব ভালো একটা বৈঠক হয়েছে। আমরা অনেক বিষয়ে একমত হয়েছি, তবে কয়েকটি বড় বিষয়ে আমরা এখনও পুরোপুরি মতৈক্যে পৌঁছাতে পারিনি। তবে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে।” তিনি বৈঠককে ‘খুবই ফলপ্রসূ‘ বললেও স্বীকার করেন যে, চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়নি।

ট্রাম্প আরও বলেন, “আমি চাই ইউক্রেনে মানুষের মৃত্যু বন্ধ হোক। যতক্ষণ পর্যন্ত চুক্তি না হচ্ছে, ততক্ষণ কোনো চুক্তি নেই, তবে আমরা অনেকখানি অগ্রগতি করেছি।” তিনি জানান, এখন এই চুক্তি সম্পন্ন করার প্রধান দায়িত্ব ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির। ট্রাম্প বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোকেও কিছুটা জড়িত হতে হবে, তবে মূল দায়িত্ব জেলেনস্কির। তিনি আশা করেন, পুতিন, জেলেনস্কি ও তার মধ্যে আরেকটি বৈঠক হবে।

বৈঠকে পুতিনের সঙ্গে একান্তে কোনো কথা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “হ্যাঁ, হয়েছে। তিনি খুব ভালো বক্তৃতা দিয়েছেন। আমার মনে হয়, তিনি চুক্তিটি করতে চান।” ট্রাম্প বলেন, একটি সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তারা একমত হতে পারেননি, যে কারণে চুক্তি হয়নি। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, চুক্তিতে পৌঁছানোর ভালো সম্ভাবনা আছে। আলোচনার অগ্রগতির বিষয়ে তিনি বলেন, এটি “৫০-৫০”, কারণ অনেক কিছুই ঘটতে পারে।

ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, “আমি সংঘাতের অবসান চাই।” তবে তিনি জোর দেন যে, সংঘাতের আগে তার “মূল কারণগুলো” দূর করতে হবে। তিনি ইউক্রেন ও ইউরোপীয় নেতাদের প্রতি এই শান্তি প্রক্রিয়ায় ‘বাধা সৃষ্টি’ না করার আহ্বান জানান। পুতিন আরও আশা প্রকাশ করেন যে, আজকের এই আলোচনা শুধু ইউক্রেন সমস্যার সমাধানই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে ব্যবসায়িক ও বাস্তববাদী সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

বৈঠকে ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটি হেগসেথ, সিআইএ পরিচালক জন রেটক্লিফসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। অন্যদিকে, পুতিনের সঙ্গে অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলৌসভ, অর্থমন্ত্রী অন্তন সিলুয়ানভসহ রুশ প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দূতরা।