ইয়েমেনি ব্যবসায়ী হত্যায় ভারতীয় নার্সের মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকরের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা
  • ১:৫২ পিএম | ১০ আগস্ট ২০২৫ | রবিবার
ইয়েমেনি ব্যবসায়ী হত্যায় ভারতীয় নার্সের মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকরের দাবি

ইয়েমেনে ব্যবসায়ী হত্যার দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত ভারতীয় নার্স নিমিশা প্রিয়ার মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করার দাবি তৃতীয়বারের মতো জানালেন ভুক্তভোগীর পরিবার। নিহত ইয়েমেনি ব্যবসায়ী তালাল আবদো মাহদির ভাই আবদুল ফাত্তাহ মাহদি দেশটির কর্তৃপক্ষের কাছে এই আবেদন জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শনিবার (৯ আগস্ট) তিনি জানান, পরিবার ইয়েমেনের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং নির্দিষ্ট একটি তারিখে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য একটি চিঠি দিয়েছেন। এ চিঠিতে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডটি জঘন্য ও ক্ষমা অযোগ্য অপরাধ, তাই ন্যায়বিচার বিলম্ব করা উচিত নয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে নিমিশা প্রিয়া ইয়েমেনি ব্যবসায়ী তালালকে হত্যা করেন এবং তার মরদেহ টুকরো করে একটি ব্যাগে ভরে ভূগর্ভস্থ পানির ট্যাঙ্কের ভিতরে লুকিয়ে রাখেন। চলতি বছরের ৭ জুন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশে তা স্থগিত করা হয়। আবদুল ফাত্তাহ উল্লেখ করেন, তারা একাধিকবার রায় কার্যকর করার জন্য নতুন তারিখ চেয়েছেন এবং ক্ষমা চাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। এর আগে তিনি দুইবার একই দাবিতে চিঠি দিয়েছেন।

গত ১৬ জুলাই নিমিশা প্রিয়ার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা ছিল, তবে ভারত সরকারের কূটনৈতিক চেষ্টা এবং মধ্যস্থতার কারণে তা স্থগিত রাখা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, কূটনৈতিক পথ প্রায় বন্ধ হয়ে আসায় মৃত্যুদণ্ড ঠেকানোর একমাত্র উপায় হিসেবে ‘ব্লাড মানি’ অর্থাৎ রক্তের দাম গ্রহণের প্রস্তাব আসলেও ভুক্তভোগী পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে কেরালার বাসিন্দা এপি আবুবকর মুসলিয়ার নিমিশাকে বাঁচানোর জন্য ইয়েমেনের ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন। তবে মৃত তালালের ভাই আবদুল মাহদি ‘রক্তের দাম’ গ্রহণের ব্যাপারে শুরু থেকেই অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

এ প্রসঙ্গে ভারতে মুসলিয়ার দাবি ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করলে সরকারি সূত্র এএনআইকে জানায়, ‘ইয়েমেনে নিমিশার মৃত্যুদণ্ড বাতিলের যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভুল তথ্য।’ এতদ্বারা ভুক্তভোগীর পরিবার দ্রুত ন্যায়বিচার সম্পন্ন করতে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রতি কঠোর ইঙ্গিত দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইয়েমেনি ব্যবসায়ী হত্যায় ভারতীয় নার্সের মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকরের দাবি

১:৫২ পিএম | ১০ আগস্ট ২০২৫ | রবিবার

ইয়েমেনে ব্যবসায়ী হত্যার দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত ভারতীয় নার্স নিমিশা প্রিয়ার মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করার দাবি তৃতীয়বারের মতো জানালেন ভুক্তভোগীর পরিবার। নিহত ইয়েমেনি ব্যবসায়ী তালাল আবদো মাহদির ভাই আবদুল ফাত্তাহ মাহদি দেশটির কর্তৃপক্ষের কাছে এই আবেদন জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শনিবার (৯ আগস্ট) তিনি জানান, পরিবার ইয়েমেনের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং নির্দিষ্ট একটি তারিখে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য একটি চিঠি দিয়েছেন। এ চিঠিতে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডটি জঘন্য ও ক্ষমা অযোগ্য অপরাধ, তাই ন্যায়বিচার বিলম্ব করা উচিত নয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে নিমিশা প্রিয়া ইয়েমেনি ব্যবসায়ী তালালকে হত্যা করেন এবং তার মরদেহ টুকরো করে একটি ব্যাগে ভরে ভূগর্ভস্থ পানির ট্যাঙ্কের ভিতরে লুকিয়ে রাখেন। চলতি বছরের ৭ জুন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশে তা স্থগিত করা হয়। আবদুল ফাত্তাহ উল্লেখ করেন, তারা একাধিকবার রায় কার্যকর করার জন্য নতুন তারিখ চেয়েছেন এবং ক্ষমা চাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। এর আগে তিনি দুইবার একই দাবিতে চিঠি দিয়েছেন।

গত ১৬ জুলাই নিমিশা প্রিয়ার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা ছিল, তবে ভারত সরকারের কূটনৈতিক চেষ্টা এবং মধ্যস্থতার কারণে তা স্থগিত রাখা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, কূটনৈতিক পথ প্রায় বন্ধ হয়ে আসায় মৃত্যুদণ্ড ঠেকানোর একমাত্র উপায় হিসেবে ‘ব্লাড মানি’ অর্থাৎ রক্তের দাম গ্রহণের প্রস্তাব আসলেও ভুক্তভোগী পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে কেরালার বাসিন্দা এপি আবুবকর মুসলিয়ার নিমিশাকে বাঁচানোর জন্য ইয়েমেনের ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন। তবে মৃত তালালের ভাই আবদুল মাহদি ‘রক্তের দাম’ গ্রহণের ব্যাপারে শুরু থেকেই অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

এ প্রসঙ্গে ভারতে মুসলিয়ার দাবি ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করলে সরকারি সূত্র এএনআইকে জানায়, ‘ইয়েমেনে নিমিশার মৃত্যুদণ্ড বাতিলের যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভুল তথ্য।’ এতদ্বারা ভুক্তভোগীর পরিবার দ্রুত ন্যায়বিচার সম্পন্ন করতে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রতি কঠোর ইঙ্গিত দিয়েছে।