নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন চূড়ান্তে বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন

- ৫:৫০ পিএম | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | বুধবার
মাঠ পর্যায়ের তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন চূড়ান্ত করতে আগামী বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ সংক্রান্ত তথ্য জানিয়ে ইসির উপসচিব মো. মাহবুব আলম শাহ্ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বুধবার প্রকাশ করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে কমিশনের “সীমানা পুনর্নির্ধারণ, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, জাতীয় এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন প্রস্তুতি, ভোটকেন্দ্র স্থাপন, ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের প্যানেল প্রস্তুত ও তদারকি এবং উপকারভোগী পর্যায়ে আলোচনা বিষয়ক কমিটি”র ১৩তম সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভার আলোচ্যসূচিতে নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন সংক্রান্ত বিষয় ও অন্যান্য বিবিধ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ইসির ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শর্ত পূরণ করা দলগুলোর বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনও দলের বিষয়ে দাবি-আপত্তি পাওয়া গেলে তা ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শুনানি গ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন। আর যদি কোনও আপত্তি না পাওয়া যায়, তবে ২৩ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন আবেদন চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দিয়ে গেজেট প্রকাশ ও নিবন্ধন সনদ প্রদান করবে ইসি।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “২২টি দলের বিষয়ে আমরা জেলাভিত্তিক তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছি। ৬৪ জেলায় যার দায়িত্ব রয়েছে, সে অনুযায়ী প্রতিবেদন দেবে। এরই মধ্যে কিছু রিপোর্ট আসছে, কিছু রিপোর্ট এখনো আসার প্রক্রিয়ায় আছে।”
প্রাথমিক বাছাইয়ে টিকে থাকা ২২টি দল হলো—ফরওয়ার্ড পার্টি, আমজনতার দল, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টি (বিজিপি), বাংলাদেশ সংস্কারবাদী পার্টি (বিআরপি), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী), মৌলিক বাংলা, বাংলাদেশ জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি, জাতীয় জনতা পার্টি, জনতার দল, জনতা পার্টি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ জাতীয় লীগ, ভাসানী জনশক্তি পার্টি, বাংলাদেশ বেকার মুক্তি পরিষদ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)—সিপিবি (এম), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ–শাহজাহান সিরাজ), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ বেকার সমাজ (বাবেস), বাংলাদেশ সলুশন পার্টি এবং নতুন বাংলাদেশ পার্টি।
আইন অনুযায়ী, নিবন্ধন পেতে হলে দলের একটি কেন্দ্রীয় কমিটি, অন্তত এক-তৃতীয়াংশ জেলা ও ১০০টি উপজেলা কমিটি থাকতে হবে এবং প্রতিটি কমিটির কমপক্ষে ২০০ ভোটারের সমর্থনের প্রমাণ দেখাতে হবে। এছাড়া কোনও দলের প্রার্থী পূর্বে সংসদ সদস্য থাকলে বা পূর্ববর্তী নির্বাচনে কমপক্ষে পাঁচ শতাংশ ভোট পেলে সেটিও নিবন্ধন পাওয়ার যোগ্যতা হিসেবে গণ্য হবে। এসব শর্ত ছাড়াও বিভিন্ন নিয়ম-কানুন মানা বাধ্যতামূলক, যা প্রাথমিক বাছাইয়ে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।






















