সবজি ও ডিমের বাজারে অস্থিরতা, চাপে স্বল্প আয়ের মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা
  • ৮:২৮ পিএম | ২৩ আগস্ট ২০২৫ | শনিবার
সবজি ও ডিমের বাজারে অস্থিরতা, চাপে স্বল্প আয়ের মানুষ

মাছ-মাংসের দাম বেশি থাকায় স্বল্প আয়ের মানুষের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে ডিম ও সবজি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই দুই নিত্যপণ্যের বাজারেও দেখা দিয়েছে তীব্র অস্থিরতা। ডিমের দাম যেমন বেড়েছে, তেমনি সব ধরনের সবজির দামও উচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে। ভোক্তারা অভিযোগ করছেন, সরকারের দুর্বল তদারকির সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীরা আগের মতোই কারসাজি করছে এবং নানা ছুতোয় দাম বাড়াচ্ছে। এতে কম আয়ের মানুষেরা মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন।

ব্যবসায়ীরা অবশ্য বলছেন, গ্রীষ্মকালীন সবজির উৎপাদন স্বাভাবিকভাবে কমে এসেছে। এর ওপর সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে অনেক এলাকায় ফসল নষ্ট হয়েছে এবং সবজির সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কম থাকায় স্বাভাবিকভাবেই দাম বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে সবজির সংকট থাকায় ডিমের চাহিদা বেড়ে দামও বাড়ছে।

রাজধানীর আগারগাঁও, মহাখালী ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, আর লম্বা বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা। পটোল, কাঁকরোল ও ড্যাঁড়শ ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল ও ঝিঙ্গা ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং বরবটি, উচ্ছে বা করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট আকারের ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। মূলা ৪০ থেকে ৫০, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০, আর লাউ ও কুমড়ো প্রতি পিচ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। টমেটো কেজিপ্রতি ১৪০ থেকে ১৭০ এবং কাঁচামরিচ ২২০ থেকে ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আলুর দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি; গত কয়েক মাস ধরেই প্রতি কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে আলু।

মহাখালী কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী আবু বকর বলেন, উৎপাদন এলাকা থেকে কারওয়ান বাজারে সবজি তুলনামূলক কম আসছে। সরবরাহ না বাড়লে দামও কমবে না। কারওয়ান বাজারের আরেক ব্যবসায়ী দুলাল হোসেন জানান, বৃষ্টির কারণে অনেক জায়গায় ফসল নষ্ট হয়েছে এবং মৌসুম না হওয়ায় কিছু সবজির দাম বেশি।

সবজির দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে ডিম ও মুরগির বাজারেও। খুচরায় প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায়, আর পাড়া-মহল্লায় তা ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে প্রতি ডজন ডিম ১৩০ টাকার আশপাশে ছিল। একইভাবে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে এখন ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় দাঁড়িয়েছে, আর সোনালি মুরগি কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারের ডিম ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, পাইকারিতে দাম বাড়ায় খুচরায়ও দাম বেড়েছে। তবে প্রতিদিনই বাজারে ভোক্তা অধিদপ্তরের লোকজন আসে, তাই অতিরিক্ত দাম নেওয়ার সুযোগ নেই।

পেঁয়াজের বাজারে ভারত থেকে আমদানির কারণে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা এবং আমদানি করা পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি রসুনের কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা এবং আমদানি করা রসুন ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে আটা বাজারে গত সপ্তাহে কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। খোলা আটা কেজিতে ৪৫ থেকে ৫০ এবং প্যাকেট আটা ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও সম্প্রতি ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হয়েছে, তবে এর প্রভাব এখনও বাজারে পড়েনি। খুচরায় সরু চাল কেজিতে ৭৫ থেকে ৮০, মাঝারি চাল ৬০ থেকে ৬৫ এবং মোটা চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মসুর ডালের বাজারেও অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশি মসুর ডাল সংকটের অজুহাতে কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যদিও আমদানি করা মসুর ডাল এখনও ৯৫ থেকে ১০৫ টাকায় কেনা যাচ্ছে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে গড়ে ১২ শতাংশ বেড়েছে চালের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা আটা, ডিম, ডাল ও মুরগির দামও বেড়েছে।

বাজার থেকে সবজি কিনে নেওয়ার পর হামিমুর রহমান নামের এক ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, সরবরাহ সংকটের অজুহাত দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের তদারকির ধারাবাহিকতা নেই। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এখনই লাগাম টেনে ধরতে না পারলে কম আয়ের মানুষেরা সামনে আরও বড় বিপদে পড়বেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

সবজি ও ডিমের বাজারে অস্থিরতা, চাপে স্বল্প আয়ের মানুষ

৮:২৮ পিএম | ২৩ আগস্ট ২০২৫ | শনিবার

মাছ-মাংসের দাম বেশি থাকায় স্বল্প আয়ের মানুষের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে ডিম ও সবজি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই দুই নিত্যপণ্যের বাজারেও দেখা দিয়েছে তীব্র অস্থিরতা। ডিমের দাম যেমন বেড়েছে, তেমনি সব ধরনের সবজির দামও উচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে। ভোক্তারা অভিযোগ করছেন, সরকারের দুর্বল তদারকির সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীরা আগের মতোই কারসাজি করছে এবং নানা ছুতোয় দাম বাড়াচ্ছে। এতে কম আয়ের মানুষেরা মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন।

ব্যবসায়ীরা অবশ্য বলছেন, গ্রীষ্মকালীন সবজির উৎপাদন স্বাভাবিকভাবে কমে এসেছে। এর ওপর সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে অনেক এলাকায় ফসল নষ্ট হয়েছে এবং সবজির সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কম থাকায় স্বাভাবিকভাবেই দাম বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে সবজির সংকট থাকায় ডিমের চাহিদা বেড়ে দামও বাড়ছে।

রাজধানীর আগারগাঁও, মহাখালী ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, আর লম্বা বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা। পটোল, কাঁকরোল ও ড্যাঁড়শ ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল ও ঝিঙ্গা ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং বরবটি, উচ্ছে বা করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট আকারের ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। মূলা ৪০ থেকে ৫০, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০, আর লাউ ও কুমড়ো প্রতি পিচ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। টমেটো কেজিপ্রতি ১৪০ থেকে ১৭০ এবং কাঁচামরিচ ২২০ থেকে ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আলুর দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি; গত কয়েক মাস ধরেই প্রতি কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে আলু।

মহাখালী কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী আবু বকর বলেন, উৎপাদন এলাকা থেকে কারওয়ান বাজারে সবজি তুলনামূলক কম আসছে। সরবরাহ না বাড়লে দামও কমবে না। কারওয়ান বাজারের আরেক ব্যবসায়ী দুলাল হোসেন জানান, বৃষ্টির কারণে অনেক জায়গায় ফসল নষ্ট হয়েছে এবং মৌসুম না হওয়ায় কিছু সবজির দাম বেশি।

সবজির দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে ডিম ও মুরগির বাজারেও। খুচরায় প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায়, আর পাড়া-মহল্লায় তা ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে প্রতি ডজন ডিম ১৩০ টাকার আশপাশে ছিল। একইভাবে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে এখন ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় দাঁড়িয়েছে, আর সোনালি মুরগি কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারের ডিম ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, পাইকারিতে দাম বাড়ায় খুচরায়ও দাম বেড়েছে। তবে প্রতিদিনই বাজারে ভোক্তা অধিদপ্তরের লোকজন আসে, তাই অতিরিক্ত দাম নেওয়ার সুযোগ নেই।

পেঁয়াজের বাজারে ভারত থেকে আমদানির কারণে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা এবং আমদানি করা পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি রসুনের কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা এবং আমদানি করা রসুন ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে আটা বাজারে গত সপ্তাহে কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। খোলা আটা কেজিতে ৪৫ থেকে ৫০ এবং প্যাকেট আটা ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও সম্প্রতি ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হয়েছে, তবে এর প্রভাব এখনও বাজারে পড়েনি। খুচরায় সরু চাল কেজিতে ৭৫ থেকে ৮০, মাঝারি চাল ৬০ থেকে ৬৫ এবং মোটা চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মসুর ডালের বাজারেও অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশি মসুর ডাল সংকটের অজুহাতে কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যদিও আমদানি করা মসুর ডাল এখনও ৯৫ থেকে ১০৫ টাকায় কেনা যাচ্ছে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে গড়ে ১২ শতাংশ বেড়েছে চালের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা আটা, ডিম, ডাল ও মুরগির দামও বেড়েছে।

বাজার থেকে সবজি কিনে নেওয়ার পর হামিমুর রহমান নামের এক ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, সরবরাহ সংকটের অজুহাত দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের তদারকির ধারাবাহিকতা নেই। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এখনই লাগাম টেনে ধরতে না পারলে কম আয়ের মানুষেরা সামনে আরও বড় বিপদে পড়বেন।