সোনার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে, বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়াল

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
  • ১:৪৪ পিএম | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | বুধবার
সোনার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে, বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়াল

অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে সোনার দাম। বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৩ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) এক সময় দাম ৩ হাজার ৫০৮ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছায়। বাংলাদেশি মুদ্রায় এটি প্রায় ৪ লাখ ২১ হাজার ২০ টাকা (১ ডলার = ১২০ টাকা ধরে), আর প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৬০ টাকায়। হিসাব করে দেখা গেছে, চলতি বছরে সোনার দাম ৩০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ।

বিশ্ববাজারে সোনার এই উত্থানকে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির দুর্বলতা ও বিনিয়োগকারীদের আচরণের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। মার্কিন ডলার দুর্বল হয়ে পড়ার পাশাপাশি চলতি মাসে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা থাকায় বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে ঝুঁকে পড়েছেন।

ক্যাপিটাল ডটকমের আর্থিক বাজার বিশ্লেষক কাইল রড্ডা জানিয়েছেন, দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ফেডের সুদহার কমানোর সম্ভাবনা মূল্যবান ধাতুর বাজারে চাঙা সৃষ্টি করছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডের স্বাধীনতায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ ডলারভিত্তিক সম্পদের ওপর আস্থার সংকট তৈরি করেছে।

মাসের পর মাস ধরে ট্রাম্প ফেড ও এর চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের সমালোচনা করছেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, পাওয়েল সুদহার কমাচ্ছেন না এবং সম্প্রতি ফেডের ওয়াশিংটন সদর দপ্তরের ব্যয়বহুল সংস্কারকাজ নিয়েও সমালোচনা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ফেড স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হলেও তারা অনেক ভুল করেছে। তিনি আরও বলেছেন, বন্ধকির বিষয়ে জালিয়াতির অভিযোগে ফেড গভর্নর লিসা কুককে বরখাস্ত করার অধিকার প্রেসিডেন্টের রয়েছে।

সিএমই ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা ১৭ সেপ্টেম্বর ফেডের এক-চতুর্থাংশ পয়েন্ট সুদহার কমানোর সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ হিসেবে দেখছেন। সুদহার কমানোর সম্ভাবনা এবং ফেডের স্বাধীনতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তার কারণে মার্কিন ডলারও সম্প্রতি প্রতিদ্বন্দ্বী মুদ্রার তুলনায় দেড় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ফেডের সুদের হার কম থাকলে সোনার মতো সুদবিহীন সম্পদ বিনিয়োগকারীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। এর ফলে, সুদের হার কমানোর ক্ষেত্রে সোনার দাম ভবিষ্যতেও বাড়তে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সোনার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে, বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়াল

১:৪৪ পিএম | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | বুধবার

অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে সোনার দাম। বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৩ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) এক সময় দাম ৩ হাজার ৫০৮ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছায়। বাংলাদেশি মুদ্রায় এটি প্রায় ৪ লাখ ২১ হাজার ২০ টাকা (১ ডলার = ১২০ টাকা ধরে), আর প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৬০ টাকায়। হিসাব করে দেখা গেছে, চলতি বছরে সোনার দাম ৩০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ।

বিশ্ববাজারে সোনার এই উত্থানকে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির দুর্বলতা ও বিনিয়োগকারীদের আচরণের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। মার্কিন ডলার দুর্বল হয়ে পড়ার পাশাপাশি চলতি মাসে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা থাকায় বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে ঝুঁকে পড়েছেন।

ক্যাপিটাল ডটকমের আর্থিক বাজার বিশ্লেষক কাইল রড্ডা জানিয়েছেন, দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ফেডের সুদহার কমানোর সম্ভাবনা মূল্যবান ধাতুর বাজারে চাঙা সৃষ্টি করছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডের স্বাধীনতায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ ডলারভিত্তিক সম্পদের ওপর আস্থার সংকট তৈরি করেছে।

মাসের পর মাস ধরে ট্রাম্প ফেড ও এর চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের সমালোচনা করছেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, পাওয়েল সুদহার কমাচ্ছেন না এবং সম্প্রতি ফেডের ওয়াশিংটন সদর দপ্তরের ব্যয়বহুল সংস্কারকাজ নিয়েও সমালোচনা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ফেড স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হলেও তারা অনেক ভুল করেছে। তিনি আরও বলেছেন, বন্ধকির বিষয়ে জালিয়াতির অভিযোগে ফেড গভর্নর লিসা কুককে বরখাস্ত করার অধিকার প্রেসিডেন্টের রয়েছে।

সিএমই ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা ১৭ সেপ্টেম্বর ফেডের এক-চতুর্থাংশ পয়েন্ট সুদহার কমানোর সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ হিসেবে দেখছেন। সুদহার কমানোর সম্ভাবনা এবং ফেডের স্বাধীনতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তার কারণে মার্কিন ডলারও সম্প্রতি প্রতিদ্বন্দ্বী মুদ্রার তুলনায় দেড় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ফেডের সুদের হার কম থাকলে সোনার মতো সুদবিহীন সম্পদ বিনিয়োগকারীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। এর ফলে, সুদের হার কমানোর ক্ষেত্রে সোনার দাম ভবিষ্যতেও বাড়তে পারে।