স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির মামলায় মোতাজ্জরুল ইসলাম মিঠু গ্রেপ্তার

- ২:৪৫ পিএম | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | বৃহস্পতিবার
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির হোতা হিসেবে পরিচিত মোতাজ্জরুল ইসলাম মিঠুকে রাজধানীর গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা-উত্তর) মোহাম্মদ রবিউল হোসেন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ মামলা রয়েছে। দুদকের চাহিদাপত্রের ভিত্তিতে বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে তাকে গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ তাকে দুদকে হস্তান্তর করা হবে।
দুদকের অনুমোদন অনুযায়ী, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারে জড়িত স্বাস্থ্য খাতের আলোচিত ঠিকাদার মিঠুর বিরুদ্ধে প্রায় ৭৬ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা করা হয়েছে। দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মিঠু লেক্সিকোন মার্চেন্ডাইস ও টেকনোক্রেট নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। তিনি কৃষিজমি ক্রয়, জমি লিজ, প্লট, ফ্ল্যাট ও বাড়ি নির্মাণের মাধ্যমে মোট ১৮ কোটি ৪০ লাখ ৫১ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানিতে শেয়ার ও বিনিয়োগ, গাড়ি ক্রয়, ব্যাংক হিসাবের স্থিতি, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী মিলিয়ে আরও ৫৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ তার নামে পাওয়া গেছে। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তার সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।
এছাড়া মিঠুর নামে পারিবারিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৭১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ সম্পদ ও ব্যয়সহ তার মোট সম্পদের হিসাব দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা। অনুসন্ধানে বৈধ উৎস থেকে পাওয়া গেছে ৭১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, যা থেকে প্রমাণ হয় যে বৈধ আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে ৭৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন মিঠু। এজন্য দুদক আইন ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মোটদিক থেকে, ২০১৬ সালে প্রকাশিত বহুল আলোচিত পানামা পেপারসে মিঠুর নাম আসে। অভিযোগ রয়েছে, তার মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন মালামাল সরবরাহ ও উন্নয়নকাজের নামে প্রভাব খাটিয়ে তিনি বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।






















