০৩:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫

সাতক্ষীরায় বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ১০ গ্রাম, ঈদ কাটল নির্ঘুম

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:৫৮:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল ২০২৫
  • / ৯ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: আশাশুনিতে খোলপেটুয়া নদীর পানির চাপে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ভেঙে অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ঈদের দিন রাতে ঘটে যাওয়া এই দুর্যোগে ২০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। ভেসে গেছে চার শতাধিক মৎস্যঘের এবং তলিয়ে গেছে ৫০০ বিঘা বোরো ধান।

স্থানীয়রা জানান, বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ফলে তিন শতাধিক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। অনেকেই এখনো ঘর ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দ্রুত বাঁধ সংস্কার করা না গেলে ১০ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষার আয়োজনও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙা অংশ দিয়ে গ্রামের ভেতরে হু হু করে পানি ঢুকছে। স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করছেন।

ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মাইকিং করে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, আগামীকাল (২ এপ্রিল) সকাল ৭টার মধ্যে প্রতিটি বাড়ির পুরুষদের বাঁধ সংস্কারের কাজে অংশ নিতে হবে।

বিছট উচ্চমাধ্যমিক মডেল হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু দাউদ জানান, বাঁধের ওই অংশ দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। স্থানীয় মৎস্যঘের মালিকরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ ছিদ্র করে পাইপ বসিয়ে পানি তুলছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত বাঁধ ধসে যাওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তিনি আরও বলেন, “গতকাল (৩১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঈদের নামাজের সময় গ্রামবাসী জানতে পারেন, বাঁধ ধসে পানি ঢুকছে। হাজারো মানুষ একত্র হয়ে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করেন, কিন্তু বেলা ১১টার দিকে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর একের পর এক গ্রামে পানি ঢুকে যায়।”

আবু দাউদ জানান, তাঁর বিদ্যালয়েই এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র নির্ধারিত হয়েছে। বাঁধ মেরামত করা না গেলে ১০ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

আনুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রুহুল কদ্দুস বলেন, “বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর গ্রামবাসীর ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে। রাতভর সবাই উৎকণ্ঠায় ছিলেন। আমাদের ঈদ নির্ঘুম কেটেছে।”

গ্রামবাসীরা এখন দ্রুত বাঁধ মেরামতের দাবি জানিয়েছেন, যাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

সাতক্ষীরায় বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ১০ গ্রাম, ঈদ কাটল নির্ঘুম

আপডেট সময় ০৬:৫৮:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল ২০২৫

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: আশাশুনিতে খোলপেটুয়া নদীর পানির চাপে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ভেঙে অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ঈদের দিন রাতে ঘটে যাওয়া এই দুর্যোগে ২০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। ভেসে গেছে চার শতাধিক মৎস্যঘের এবং তলিয়ে গেছে ৫০০ বিঘা বোরো ধান।

স্থানীয়রা জানান, বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ফলে তিন শতাধিক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। অনেকেই এখনো ঘর ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দ্রুত বাঁধ সংস্কার করা না গেলে ১০ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষার আয়োজনও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙা অংশ দিয়ে গ্রামের ভেতরে হু হু করে পানি ঢুকছে। স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করছেন।

ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মাইকিং করে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, আগামীকাল (২ এপ্রিল) সকাল ৭টার মধ্যে প্রতিটি বাড়ির পুরুষদের বাঁধ সংস্কারের কাজে অংশ নিতে হবে।

বিছট উচ্চমাধ্যমিক মডেল হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু দাউদ জানান, বাঁধের ওই অংশ দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। স্থানীয় মৎস্যঘের মালিকরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ ছিদ্র করে পাইপ বসিয়ে পানি তুলছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত বাঁধ ধসে যাওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তিনি আরও বলেন, “গতকাল (৩১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঈদের নামাজের সময় গ্রামবাসী জানতে পারেন, বাঁধ ধসে পানি ঢুকছে। হাজারো মানুষ একত্র হয়ে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করেন, কিন্তু বেলা ১১টার দিকে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর একের পর এক গ্রামে পানি ঢুকে যায়।”

আবু দাউদ জানান, তাঁর বিদ্যালয়েই এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র নির্ধারিত হয়েছে। বাঁধ মেরামত করা না গেলে ১০ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

আনুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রুহুল কদ্দুস বলেন, “বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর গ্রামবাসীর ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে। রাতভর সবাই উৎকণ্ঠায় ছিলেন। আমাদের ঈদ নির্ঘুম কেটেছে।”

গ্রামবাসীরা এখন দ্রুত বাঁধ মেরামতের দাবি জানিয়েছেন, যাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়।