০৩:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫

ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনা, চাকরির শেষ দিনেই প্রাণ হারালেন চালক

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:০৯:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫
  • / ৮ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট : ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ জেলায় মালবাহী দুটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ দুইজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত ৩টায় বারহাট পুলিশ স্টেশন এলাকার ভোগনাদিহ সংলগ্ন স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

দুর্ঘটনায় নিহত দুই চালকের মধ্যে একজন গঙ্গেশ্বর মাল, যিনি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের বাসিন্দা ছিলেন। মর্মান্তিকভাবে, এ দিনটিই ছিল তার চাকরির শেষ কর্মদিবস। এনটিপিসি সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে তার চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আরও পাঁচ বছরের জন্য বাড়ানো হয়। ৩১ মার্চ ছিল তার চাকরির শেষ দিন। ঝাড়খণ্ড থেকে ট্রেন ইঞ্জিন নিয়ে আজিমগঞ্জ জংশনে গিয়ে অবসরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।

কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি)-এর মালিকানাধীন রেলপথে কয়লা পরিবহণের কাজে ব্যবহৃত হয় এই ট্রেনগুলো। এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, একটি মালবাহী ট্রেন ক্রসিংয়ের কাছে অপেক্ষা করছিল, যাতে আরেকটি ট্রেন যেতে পারে। কিন্তু ভুলবশত একই লাইনে আরেকটি মালবাহী ট্রেন চলে আসে, ফলে সংঘর্ষ ঘটে এবং ট্রেন দুটি লাইনচ্যুত হয়।

দুর্ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি

সাহেবগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) অমিত কুমার সিং দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বারহাটের এমজিআর রেললাইনে এনটিপিসির দুটি মালবাহী ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। এতে চালক গঙ্গেশ্বর মাল ও অম্বুজ মাহাতো প্রাণ হারিয়েছেন।’

এ দুর্ঘটনায় আরও দুই সহকারী লোকো পাইলট ও দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহতদের চিকিৎসার জন্য মালদহে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনা, চাকরির শেষ দিনেই প্রাণ হারালেন চালক

আপডেট সময় ১১:০৯:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫

ডেস্ক রিপোর্ট : ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ জেলায় মালবাহী দুটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ দুইজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত ৩টায় বারহাট পুলিশ স্টেশন এলাকার ভোগনাদিহ সংলগ্ন স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

দুর্ঘটনায় নিহত দুই চালকের মধ্যে একজন গঙ্গেশ্বর মাল, যিনি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের বাসিন্দা ছিলেন। মর্মান্তিকভাবে, এ দিনটিই ছিল তার চাকরির শেষ কর্মদিবস। এনটিপিসি সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে তার চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আরও পাঁচ বছরের জন্য বাড়ানো হয়। ৩১ মার্চ ছিল তার চাকরির শেষ দিন। ঝাড়খণ্ড থেকে ট্রেন ইঞ্জিন নিয়ে আজিমগঞ্জ জংশনে গিয়ে অবসরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।

কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি)-এর মালিকানাধীন রেলপথে কয়লা পরিবহণের কাজে ব্যবহৃত হয় এই ট্রেনগুলো। এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, একটি মালবাহী ট্রেন ক্রসিংয়ের কাছে অপেক্ষা করছিল, যাতে আরেকটি ট্রেন যেতে পারে। কিন্তু ভুলবশত একই লাইনে আরেকটি মালবাহী ট্রেন চলে আসে, ফলে সংঘর্ষ ঘটে এবং ট্রেন দুটি লাইনচ্যুত হয়।

দুর্ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি

সাহেবগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) অমিত কুমার সিং দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বারহাটের এমজিআর রেললাইনে এনটিপিসির দুটি মালবাহী ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। এতে চালক গঙ্গেশ্বর মাল ও অম্বুজ মাহাতো প্রাণ হারিয়েছেন।’

এ দুর্ঘটনায় আরও দুই সহকারী লোকো পাইলট ও দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহতদের চিকিৎসার জন্য মালদহে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।