রপ্তানিতে বড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ

- আপডেট সময় ০৯:৩৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫
- / ১১ বার পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট : যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ওয়াশিংটন সময় বুধবার বিকেলে হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই উচ্চ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন।
এতদিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক ছিল। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর প্রায় ৮৪০ কোটি ডলারের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়, যার অধিকাংশই তৈরি পোশাক। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ৭৩৪ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্যান্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে কত শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সেসব দেশে কত শুল্ক বসিয়েছে, তার একটি তালিকা তুলে ধরেছেন। ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপে ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ, পাকিস্তানের পণ্যের ওপর ২৯ শতাংশ এবং চীনের পণ্যের ওপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
এছাড়াও, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর ৪৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার পণ্যের ওপর ৪৪ শতাংশ, তাইওয়ানের পণ্যের ওপর ৩২ শতাংশ, জাপানের পণ্যের ওপর ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডের পণ্যের ওপর ৩৬ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডের পণ্যের ওপর ৩১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার পণ্যের ওপর ৩২ শতাংশ, মালয়েশিয়ার পণ্যের ওপর ২৪ শতাংশ, কম্বোডিয়ার পণ্যের ওপর ৪৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যের ওপর ৩০ শতাংশ, ব্রাজিলের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ, ইসরায়েলের পণ্যের ওপর ১৭ শতাংশ, ফিলিপাইনের পণ্যের ওপর ১৭ শতাংশ, চিলির পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ, তুরস্কের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ, কলম্বিয়ার পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ, মায়ানমারের পণ্যের ওপর ৪৪ শতাংশ, লাওসের পণ্যের ওপর ৪৮ শতাংশ এবং মাদাগাস্কারের পণ্যের ওপর ৪৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
একইসঙ্গে, সব ধরনের বিদেশি গাড়ি আমদানিতেও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে ট্রাম্প আজকের দিনটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং একে আমেরিকান শিল্পের ‘পুনর্জন্ম’ বলে অভিহিত করেন।
ট্রাম্প বলেন, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কখনও ‘বন্ধু শত্রুর চেয়ে খারাপ হয়’। তিনি আরও বলেন, দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য বাধার মুখে রয়েছে। অন্যান্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছে।