আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা

- আপডেট সময় ০৯:৪৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫
- / ৯ বার পড়া হয়েছে
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় গণহত্যার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা মামলার খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঈদের ছুটির মধ্যেই খসড়া প্রতিবেদনটি পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে একাধিকবার অপরাধের তথ্য-প্রমাণ মিলেছে।
খসড়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এরপর অভিযোগপত্র ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গ্রহণ করলে মে মাসে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিচারকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তাজুল ইসলাম আরও জানান, ইতিমধ্যে তিনটি মামলার খসড়া প্রতিবেদন হাতে পাওয়া গেছে। চলতি মাসে আরও একটি খসড়া প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। সব মিলিয়ে চারটি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এর আগে, গত ৫ আগস্ট রাজধানীর চাঁনখারপুলে পাঁচজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের খসড়া গত ২৭ মার্চ প্রসিকিউশন কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।
এছাড়া, সাভারের আশুলিয়ায় ৬ ছাত্রকে গুলি করে হত্যার পর লাশ পোড়ানোর ঘটনায় গণহত্যার মামলায় স্থানীয় এমপি ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদনের খসড়া প্রসিকিউশনে দাখিল করা হয়। এই দুটি প্রতিবেদন চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত করে ট্রাইব্যুনালে দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণহত্যার সরাসরি নির্দেশদাতা হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সরকারের আদেশ বাস্তবায়নকারী হিসেবে সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
গত ১৬ মার্চ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যার প্রথম মামলায় শেখ হাসিনার সঙ্গে সহযোগী আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে।
১৮ মার্চ মামুনকে তদন্ত সংস্থার সেফ হোমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে এবং মামুন কারাগারে আছেন।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দুই মাস পর ১৪ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। ১৭ অক্টোবর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রথম গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল।
১৮ নভেম্বরের মধ্যে তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ১৮ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল শুনানিতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য প্রসিকিউশনকে প্রথমে এক মাস সময় দেয়।
এরপর আরও দুই মাস সময় দেওয়া হয়। সর্বশেষ ১৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল আরও দুই মাস সময় বাড়ায়। সেই হিসেবে ১৮ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে। ওইদিন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালকে জানিয়েছিলেন, এক মাসের মধ্যেই প্রতিবেদন তৈরির কাজ শেষ হয়ে যাবে।
ইতিমধ্যে তদন্ত সংস্থা থেকে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে প্রথম মামলার খসড়া প্রতিবেদন দাখিল করা হলো।