চবি শিক্ষার্থী-স্থানীয়দের সংঘর্ষ, তিনদিনেও মামলা হয়নি, আহত ১৫০০

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা
  • ১:৪৮ পিএম | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | মঙ্গলবার
চবি শিক্ষার্থী-স্থানীয়দের সংঘর্ষ, তিনদিনেও মামলা হয়নি, আহত ১৫০০

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংঘর্ষের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনও মামলা দায়ের করতে পারেনি। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে হাটহাজারী থানায় সংঘর্ষের কোনো মামলা রেকর্ড হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার রেকর্ডের জন্য সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি এজাহার জমা দেয়। তবে এতে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম বাদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। এজাহারে আবেদনকারী হিসেবে প্রক্টরিয়াল বডির নাম উল্লেখ করা হয়। থানা থেকে জানানো হয়েছে, সুনির্দিষ্ট কেউ বাদী না হলে মামলা রেকর্ড করা সম্ভব নয়। এ কারণে এজাহার সংশোধন করতে বলা হয়েছে। এরপর আর এজাহার জমা দেওয়া হয়নি।

জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে সুনির্দিষ্ট কাউকে বাদী হিসেবে উল্লেখ করতে। এজাহার সংশোধন করে নাম উল্লেখ করলে মামলা রেকর্ড হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরের প্রধান (ভারপ্রাপ্ত) আবদুর রহিম জানিয়েছেন, সোমবার তারা হাটহাজারী থানায় মামলার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন, তবে এখনও মামলা করা হয়নি। তিনি বলেন, “আজ (মঙ্গলবার) অভিযুক্তদের তথ্য প্রমাণ এবং আহতদের মেডিকেল রিপোর্ট সংগ্রহ করে মামলা করা হবে।”

সংঘর্ষ গত শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে রোববার বেলা ৪টা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘটিত হয়। এতে প্রায় ১৫০০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। চবি মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র অফিসার ডা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, আহতদের মধ্যে ৫০০ শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন ১০ জন। আহতদের শরীরে কেটে যাওয়া, গভীর ক্ষত ও রক্ত জমে ব্ল্যাকনেস দেখা গেছে। কপাল, মাথা ও শরীরে বিভিন্ন ক্ষত রয়েছে।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন এবং প্রক্টর তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফসহ শিক্ষকরা দুপক্ষকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

সংঘর্ষে দুইপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ শিক্ষার্থীদের হাতে রড, পাইপ, কাঠের লাঠি ও পাথর, স্থানীয়দের হাতে রামদা, রড ও পাইপ ছিল। ২ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকা রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে। সংঘর্ষ গ্রামের অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ে। আটকে থাকা শিক্ষার্থীদের মারধর করা হয় এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে একের পর এক শিক্ষার্থী রক্তাক্ত অবস্থায় চবি মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন রবিবার বেলা দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। পরে মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়। সংঘর্ষে গুরুতর আহত দুই শিক্ষার্থী বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন, একজনকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।

এছাড়া পার্শ্ববর্তী গ্রামে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। রোববার বিকেলে জোবরা গ্রামে একাধিক বাড়িঘর, দোকানপাট ও কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়। কোথাও কোথাও অগ্নিসংযোগের খবরও পাওয়া গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

চবি শিক্ষার্থী-স্থানীয়দের সংঘর্ষ, তিনদিনেও মামলা হয়নি, আহত ১৫০০

১:৪৮ পিএম | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | মঙ্গলবার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংঘর্ষের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনও মামলা দায়ের করতে পারেনি। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে হাটহাজারী থানায় সংঘর্ষের কোনো মামলা রেকর্ড হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার রেকর্ডের জন্য সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি এজাহার জমা দেয়। তবে এতে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম বাদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। এজাহারে আবেদনকারী হিসেবে প্রক্টরিয়াল বডির নাম উল্লেখ করা হয়। থানা থেকে জানানো হয়েছে, সুনির্দিষ্ট কেউ বাদী না হলে মামলা রেকর্ড করা সম্ভব নয়। এ কারণে এজাহার সংশোধন করতে বলা হয়েছে। এরপর আর এজাহার জমা দেওয়া হয়নি।

জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে সুনির্দিষ্ট কাউকে বাদী হিসেবে উল্লেখ করতে। এজাহার সংশোধন করে নাম উল্লেখ করলে মামলা রেকর্ড হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরের প্রধান (ভারপ্রাপ্ত) আবদুর রহিম জানিয়েছেন, সোমবার তারা হাটহাজারী থানায় মামলার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন, তবে এখনও মামলা করা হয়নি। তিনি বলেন, “আজ (মঙ্গলবার) অভিযুক্তদের তথ্য প্রমাণ এবং আহতদের মেডিকেল রিপোর্ট সংগ্রহ করে মামলা করা হবে।”

সংঘর্ষ গত শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে রোববার বেলা ৪টা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘটিত হয়। এতে প্রায় ১৫০০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। চবি মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র অফিসার ডা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, আহতদের মধ্যে ৫০০ শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন ১০ জন। আহতদের শরীরে কেটে যাওয়া, গভীর ক্ষত ও রক্ত জমে ব্ল্যাকনেস দেখা গেছে। কপাল, মাথা ও শরীরে বিভিন্ন ক্ষত রয়েছে।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন এবং প্রক্টর তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফসহ শিক্ষকরা দুপক্ষকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

সংঘর্ষে দুইপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ শিক্ষার্থীদের হাতে রড, পাইপ, কাঠের লাঠি ও পাথর, স্থানীয়দের হাতে রামদা, রড ও পাইপ ছিল। ২ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকা রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে। সংঘর্ষ গ্রামের অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ে। আটকে থাকা শিক্ষার্থীদের মারধর করা হয় এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে একের পর এক শিক্ষার্থী রক্তাক্ত অবস্থায় চবি মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন রবিবার বেলা দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। পরে মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়। সংঘর্ষে গুরুতর আহত দুই শিক্ষার্থী বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন, একজনকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।

এছাড়া পার্শ্ববর্তী গ্রামে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। রোববার বিকেলে জোবরা গ্রামে একাধিক বাড়িঘর, দোকানপাট ও কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়। কোথাও কোথাও অগ্নিসংযোগের খবরও পাওয়া গেছে।