পায়ে থাকা নূপুর দেখে বোনের লাশ শনাক্তের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা
  • ৭:৩৩ পিএম | ১৫ অক্টোবর ২০২৫ | বুধবার
পায়ে থাকা নূপুর দেখে বোনের লাশ শনাক্তের দাবি

রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে।

স্বজনদের দাবি, নিহতরা হলেন নার্গিস আক্তার ও মাহিরা আক্তার নামে দুই নারী কর্মী।

বুধবার সকাল থেকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ভিড় করছেন নিহতদের স্বজনেরা।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নার্গিসের বোন মৌসুমি জানান, বোনের পায়ে থাকা নূপুর দেখে তিনি লাশ শনাক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, “আমার বোন নার্গিস মাত্র ১৫ দিন হলো ওই কারখানায় কাজে যোগ দিয়েছিল। আজ সকালে মর্গে এসে চিনতে পারলাম।”

অন্যদিকে নিহত মাহিরার মা ফাতেমা বেগম জানান, মেয়ে তিনতলার কারখানায় কাজ করত।

তিনি বলেন, “ওর মুখ চিনতে না পারলেও পোশাক আর দেহের গঠন দেখে বুঝতে পারছি আমার মেয়ে।”

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান,

সব লাশের চেহারা বিকৃত হয়ে যাওয়ায় শনাক্তে সমস্যা হচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত ১০টি লাশ স্বজনদের দাবির ভিত্তিতে শনাক্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কোনো বিভ্রান্তি এড়াতে সব লাশের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

পরীক্ষা শেষে স্বজনদের যাচাই করে পুলিশ ও প্রশাসনের অনুমতিতে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

মঙ্গলবার বিকেলে মিরপুরের শিয়ালবাড়ির ৩ নম্বর সড়কে একটি রাসায়নিক গুদামে আগুন লাগে।

বিস্ফোরণ হয়ে আগুন পাশের চারতলা ভবনে ছড়িয়ে পড়ে,

যেখানে তিনটি পোশাক কারখানা চলছিল—স্মার্ট প্রিন্টিং, আর এন ফ্যাশন এবং বিসমিল্লাহ ফ্যাশন।

ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা রাতভর চেষ্টা চালিয়ে ভবনের দোতলা ও তিনতলা থেকে ১৬টি লাশ উদ্ধার করেন।

ভবনে কোনো ফায়ার সেফটি প্ল্যান বা অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্বজনদের আহাজারিতে ঢাকা মেডিকেল মর্গ এখন শোকাবহ পরিবেশে পরিণত হয়েছে।

নিহতদের পরিবারের দাবি—এমন দুর্ঘটনা যেন আর কোনো পরিবারের জীবনে না ঘটে।

নিউজটি শেয়ার করুন

পায়ে থাকা নূপুর দেখে বোনের লাশ শনাক্তের দাবি

৭:৩৩ পিএম | ১৫ অক্টোবর ২০২৫ | বুধবার

রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে।

স্বজনদের দাবি, নিহতরা হলেন নার্গিস আক্তার ও মাহিরা আক্তার নামে দুই নারী কর্মী।

বুধবার সকাল থেকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ভিড় করছেন নিহতদের স্বজনেরা।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নার্গিসের বোন মৌসুমি জানান, বোনের পায়ে থাকা নূপুর দেখে তিনি লাশ শনাক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, “আমার বোন নার্গিস মাত্র ১৫ দিন হলো ওই কারখানায় কাজে যোগ দিয়েছিল। আজ সকালে মর্গে এসে চিনতে পারলাম।”

অন্যদিকে নিহত মাহিরার মা ফাতেমা বেগম জানান, মেয়ে তিনতলার কারখানায় কাজ করত।

তিনি বলেন, “ওর মুখ চিনতে না পারলেও পোশাক আর দেহের গঠন দেখে বুঝতে পারছি আমার মেয়ে।”

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান,

সব লাশের চেহারা বিকৃত হয়ে যাওয়ায় শনাক্তে সমস্যা হচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত ১০টি লাশ স্বজনদের দাবির ভিত্তিতে শনাক্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কোনো বিভ্রান্তি এড়াতে সব লাশের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

পরীক্ষা শেষে স্বজনদের যাচাই করে পুলিশ ও প্রশাসনের অনুমতিতে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

মঙ্গলবার বিকেলে মিরপুরের শিয়ালবাড়ির ৩ নম্বর সড়কে একটি রাসায়নিক গুদামে আগুন লাগে।

বিস্ফোরণ হয়ে আগুন পাশের চারতলা ভবনে ছড়িয়ে পড়ে,

যেখানে তিনটি পোশাক কারখানা চলছিল—স্মার্ট প্রিন্টিং, আর এন ফ্যাশন এবং বিসমিল্লাহ ফ্যাশন।

ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা রাতভর চেষ্টা চালিয়ে ভবনের দোতলা ও তিনতলা থেকে ১৬টি লাশ উদ্ধার করেন।

ভবনে কোনো ফায়ার সেফটি প্ল্যান বা অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্বজনদের আহাজারিতে ঢাকা মেডিকেল মর্গ এখন শোকাবহ পরিবেশে পরিণত হয়েছে।

নিহতদের পরিবারের দাবি—এমন দুর্ঘটনা যেন আর কোনো পরিবারের জীবনে না ঘটে।