মার্কিন হামলায় ভেনেজুয়েলার মাদকবাহী নৌযান ধ্বংস, ১১ সন্ত্রাসী নিহত

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
  • ১২:২৩ পিএম | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | বুধবার
মার্কিন হামলায় ভেনেজুয়েলার মাদকবাহী নৌযান ধ্বংস, ১১ সন্ত্রাসী নিহত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ভোরে ক্যারিবীয় সাগরে ভেনেজুয়েলা থেকে আসা একটি মাদকবাহী নৌযানে মার্কিন সামরিক বাহিনী কাইনেটিক হামলা চালিয়েছে। হামলায় আন্তঃদেশীয় গ্যাং ‘ট্রেন দে আরাগুয়া (টিডিএ)’–এর ১১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে এই গ্যাংকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, “আজ ভোরে আমার নির্দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনী সাউথকমের দায়িত্বাধীন এলাকায় টিডিএ নামক নারকো-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কাইনেটিক হামলা চালিয়েছে।” তিনি জানান, টিডিএ নিকোলাস মাদুরোর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন, যারা গণহত্যা, মাদক ও নারী পাচার, সহিংসতা এবং সন্ত্রাসের জন্য দায়ী। হামলার সময়কার ২৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিওও প্রকাশ করেন তিনি।

হামলাটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটে, যখন নৌযানটি অবৈধ মাদক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাচ্ছিল। ট্রাম্প জানান, হামলায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যারা যুক্তরাষ্ট্রে মাদক আনার চেষ্টা করছে, আজকের হামলা তাদের জন্য একটি বার্তা—সাবধান!”

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা সরাসরি একটি মাদকভর্তি নৌকা উড়িয়ে দিয়েছি। বহু বছর ধরে প্রচুর মাদক আমাদের দেশে ঢুকছে। এগুলো ভেনেজুয়েলা থেকে এসেছে এবং আসছেও। তাই আমরা এটিকে ধ্বংস করেছি।”

মার্কিন সিনেটর মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিশ্চিত করেন, ক্যারিবীয় সাগরের দক্ষিণাঞ্চলে ভেনেজুয়েলা থেকে আসা একটি মাদকবাহী নৌযানে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে, যা একটি চিহ্নিত নারকো-সন্ত্রাসী সংগঠন পরিচালনা করছিল। দ্য হিলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, হামলাটি ছিল “সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক”, এবং শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় অঞ্চলে অন্তত সাতটি যুদ্ধজাহাজ, একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন এবং প্রায় ৪,৫০০ মেরিন মোতায়েন করেছে। লাতিন আমেরিকার মাদক কার্টেলগুলোকে মোকাবিলায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এটি “অতিরঞ্জিত, অযৌক্তিক, অনৈতিক, সম্পূর্ণ অপরাধী ও রক্তাক্ত হুমকি।” সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সর্বোচ্চ সামরিক চাপের মুখে ভেনেজুয়েলাকে রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন ভেনেজুয়েলায় কোনো স্থল আক্রমণের ইঙ্গিত দেয়নি।

মাদুরো ইতোমধ্যে কলম্বিয়ার সীমান্তে প্রায় ১৫ হাজার সৈন্য মোতায়েন করেছেন মাদক পাচার রোধে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন তাদের অভিযানে এটিকে “মাদকবিরোধী অভিযান” হিসেবে ব্যাখ্যা করছে, যা ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী গায়ানার সমর্থন পেয়েছে। ট্রাম্প লাতিন আমেরিকার মাদক কার্টেলগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিলসহ অন্যান্য মাদক পাচারের জন্য দায়ী করেছেন।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে মাদক প্রবাহ বন্ধ করতে এবং দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করতে আমেরিকার সব ধরনের শক্তি প্রয়োগে প্রস্তুত। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, বর্তমানে ইউএসএস গ্র্যাভলি এবং ইউএসএস জেসন ডানহাম নামের দুটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ক্যারিবীয় অঞ্চলে অবস্থান করছে।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানে ট্রাম্পের হাতে “রক্তের দাগ” লেগে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মার্কিন হামলায় ভেনেজুয়েলার মাদকবাহী নৌযান ধ্বংস, ১১ সন্ত্রাসী নিহত

১২:২৩ পিএম | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | বুধবার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ভোরে ক্যারিবীয় সাগরে ভেনেজুয়েলা থেকে আসা একটি মাদকবাহী নৌযানে মার্কিন সামরিক বাহিনী কাইনেটিক হামলা চালিয়েছে। হামলায় আন্তঃদেশীয় গ্যাং ‘ট্রেন দে আরাগুয়া (টিডিএ)’–এর ১১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে এই গ্যাংকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, “আজ ভোরে আমার নির্দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনী সাউথকমের দায়িত্বাধীন এলাকায় টিডিএ নামক নারকো-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কাইনেটিক হামলা চালিয়েছে।” তিনি জানান, টিডিএ নিকোলাস মাদুরোর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন, যারা গণহত্যা, মাদক ও নারী পাচার, সহিংসতা এবং সন্ত্রাসের জন্য দায়ী। হামলার সময়কার ২৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিওও প্রকাশ করেন তিনি।

হামলাটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটে, যখন নৌযানটি অবৈধ মাদক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাচ্ছিল। ট্রাম্প জানান, হামলায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যারা যুক্তরাষ্ট্রে মাদক আনার চেষ্টা করছে, আজকের হামলা তাদের জন্য একটি বার্তা—সাবধান!”

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা সরাসরি একটি মাদকভর্তি নৌকা উড়িয়ে দিয়েছি। বহু বছর ধরে প্রচুর মাদক আমাদের দেশে ঢুকছে। এগুলো ভেনেজুয়েলা থেকে এসেছে এবং আসছেও। তাই আমরা এটিকে ধ্বংস করেছি।”

মার্কিন সিনেটর মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিশ্চিত করেন, ক্যারিবীয় সাগরের দক্ষিণাঞ্চলে ভেনেজুয়েলা থেকে আসা একটি মাদকবাহী নৌযানে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে, যা একটি চিহ্নিত নারকো-সন্ত্রাসী সংগঠন পরিচালনা করছিল। দ্য হিলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, হামলাটি ছিল “সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক”, এবং শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় অঞ্চলে অন্তত সাতটি যুদ্ধজাহাজ, একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন এবং প্রায় ৪,৫০০ মেরিন মোতায়েন করেছে। লাতিন আমেরিকার মাদক কার্টেলগুলোকে মোকাবিলায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এটি “অতিরঞ্জিত, অযৌক্তিক, অনৈতিক, সম্পূর্ণ অপরাধী ও রক্তাক্ত হুমকি।” সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সর্বোচ্চ সামরিক চাপের মুখে ভেনেজুয়েলাকে রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন ভেনেজুয়েলায় কোনো স্থল আক্রমণের ইঙ্গিত দেয়নি।

মাদুরো ইতোমধ্যে কলম্বিয়ার সীমান্তে প্রায় ১৫ হাজার সৈন্য মোতায়েন করেছেন মাদক পাচার রোধে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন তাদের অভিযানে এটিকে “মাদকবিরোধী অভিযান” হিসেবে ব্যাখ্যা করছে, যা ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী গায়ানার সমর্থন পেয়েছে। ট্রাম্প লাতিন আমেরিকার মাদক কার্টেলগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিলসহ অন্যান্য মাদক পাচারের জন্য দায়ী করেছেন।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে মাদক প্রবাহ বন্ধ করতে এবং দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করতে আমেরিকার সব ধরনের শক্তি প্রয়োগে প্রস্তুত। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, বর্তমানে ইউএসএস গ্র্যাভলি এবং ইউএসএস জেসন ডানহাম নামের দুটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ক্যারিবীয় অঞ্চলে অবস্থান করছে।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানে ট্রাম্পের হাতে “রক্তের দাগ” লেগে থাকবে।