গণরোষে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, পরে নেপালেও ক্ষমতাসীনদের পতন

- ৫:৪১ পিএম | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | বুধবার
চার বছরে তিনটি দেশে একই রকম গণরোষের দৃশ্য দেখা গেছে। দেশের রাজনৈতিক দল, পতাকার রং বা স্লোগান ভিন্ন হলেও পরিণতি একই—জনতার প্রবল বিক্ষোভে সরকারের পতন। শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের পর এবার এই চিত্র নেপালেও দৃশ্যমান হলো।
২০২২ সালের জুলাই মাসে আর্থিক সংকটে জর্জরিত শ্রীলঙ্কায় জনতা প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে ও প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের সরকারি বাসভবনের দখল নেয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের কোটাবিরোধী আন্দোলনে দেড় দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা ছেড়ে দেশত্যাগ করেন। সেই সময় তার সরকারি বাসভবন, গণভবন, ছাত্রজনতার দখলে চলে যায়।
সবশেষ মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) নেপালের ছাত্র-যুবদের গণরোষ আছড়ে পড়ে সদ্য পদত্যাগ করা প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির দল কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল) ও সহযোগী নেপালি কংগ্রেসের সদর দপ্তরে। কোনো মন্ত্রীরও নিরাপদ থাকা যায়নি; কারো বাসভবনে আগুন জ্বলেছে, কেউ রাস্তায় পিটিয়ে ফেলা হয়েছে। গোতাবায়া ও হাসিনার মতো ওলি দেশত্যাগ করেছেন কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়। কিছু সংবাদমাধ্যম বলছে, তিনি হয়তো নিরাপত্তার আশঙ্কায় দুবাই চলে গেছেন।
নেপালের সরকার গত সপ্তাহে ফেসবুক, ইউটিউবসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধের ঘোষণা দেয়। এ ঘোষণার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে ছাত্র-যুবরা। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি ছোড়েন আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। কাঠমান্ডুতে এককভাবে ১৮ জনসহ ১৯ জন নিহত হন।
এরপর মঙ্গলবার সকাল থেকে কেপি শর্মা ওলির পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা একের পর এক নেতা ও মন্ত্রীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ চালায়। অবশেষে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
তিন দেশেই দেখা যায়, গণরোষের লক্ষ্য হলো শাসক ও ক্ষমতাসীনদের ঠিকানা। নির্যাতন, দমন, রাজনৈতিক উদাসীনতা—যে কোনো কারণেই হোক, জনগণ একযোগে স্বরাষ্ট্র ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাস্তায় নেমেছে এবং ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দিয়েছে।






















