চট্টগ্রামে অক্সিজেন এলাকার সেতু ভেঙে দুই ভাগ, যান চলাচলে চরম বিপর্যয়

- ১:৪৩ পিএম | ০৭ আগস্ট ২০২৫ | বৃহস্পতিবার
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী সড়কের অন্যতম ব্যস্ততম অংশ, অক্সিজেন এলাকায় শীতল ঝরনা খালের ওপর নির্মিত একটি সেতু বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) ভোর ৬টার দিকে হঠাৎ ভেঙে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। এতে সড়কের এক পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে এবং সীমিত পরিসরে অন্য পাশে গাড়ি চলাচল করলেও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
স্টার শিপ গলির পাশে অবস্থিত সেতুটি নগরের ২ নম্বর গেট থেকে অক্সিজেন এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের একটি প্রধান পথ। এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি চলাচল করে, যার মধ্যে রয়েছে পোশাক কারখানার পরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যানবাহন ও সাধারণ যাত্রীবাহী যান।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দুইজন প্রকৌশলী জানান, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় শীতল ঝরনা খাল সম্প্রসারিত হলেও সেতুটির কাঠামো অপরিবর্তিত ছিল। ইটের তৈরি এই পুরোনো সেতু ধীরে ধীরে খালের পানিপ্রবাহের চাপে দুর্বল হয়ে পড়ে। বর্ষার পানির তীব্র প্রবাহ এবং গত রাতের ভারী বৃষ্টিতে সেতুর দুই পাশের মাটি সরে গিয়ে ভাঙনের সৃষ্টি হয়।
সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান জানান, সেতুটি ১৯৮০ সালে নির্মিত হয়েছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে এটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। খাল প্রশস্ত করার পর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা আরও বেড়ে যায়। তিনি জানান, ইতোমধ্যে সেতু সংস্কারে পাঁচ কোটি টাকার একটি প্রাক্কলন করা হয়েছে এবং দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে। যত দ্রুত সম্ভব সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।
ঘটনার পর সড়কের এক পাশ দিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং অন্য পাশে সীমিত পরিসরে যানবাহন চললেও তা চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বায়েজিদ বোস্তামী থানার উপপরিদর্শক শামসুল ইসলাম বলেন, সেতুর একটি অংশ ভেঙে যাওয়ার পর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, তবে অপর অংশটিও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে যাত্রী ও চালকেরা সেতুর দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। মোটরসাইকেল আরোহী বেলায়েত হোসেন বলেন, জরুরি কাজে সড়কটি ব্যবহার করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে। সেতুটি যদি দ্রুত সংস্কার না করা হয়, তাহলে পুরো এলাকাজুড়ে যান চলাচলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।
সেতুটি নগরের এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ হওয়ায়, এই বিপর্যয় শুধু তাৎক্ষণিক সমস্যা নয়, বরং দ্রুত সমাধান না হলে এটি দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ-সঙ্কটে রূপ নিতে পারে।






















