ভারত সফরে কত টাকা পেয়েছেন মেসি

- ১২:৫৬ এএম | ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ | সোমবার
ভারত সফরে মেসির পারিশ্রমিক কত? তদন্তে বেরোল চাঞ্চল্যকর তথ্য
কলকাতা থেকে শুরু, এরপর হায়দরাবাদ, মুম্বাই হয়ে দিল্লি—গত সপ্তাহজুড়ে ভারতজুড়ে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা Lionel Messi।
এই সফরে তাঁর সঙ্গী ছিলেন দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু লুইস সুয়ারেজ ও রদ্রিগো দি পল। ইন্টার মায়ামির তারকাদের এই সফরটি ছিল মূলত বাণিজ্যিক আয়োজন।
তবে মাঠের পারফরম্যান্স নয়, এই সফর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার কারণে।
সেই ঘটনার রেশ এখন গিয়ে ঠেকেছে আদালত ও তদন্ত কমিটিতে। তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক বিস্ময়কর তথ্য।
ভারতের বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) জানিয়েছে, পুরো সফরের জন্য মেসি একাই পেয়েছেন প্রায় ৮৯ কোটি রুপি।
অথচ পুরো আয়োজনের মোট ব্যয় ছিল প্রায় ১০০ কোটি রুপি।
কলকাতার ঘটনার পর আটক প্রধান আয়োজক শতদ্রু দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই তথ্য পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা পিটিআই।
এসআইটির কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে শতদ্রু দত্ত জানান, মেসির পারিশ্রমিক ছাড়াও ভারত সরকারকে কর হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে প্রায় ১১ কোটি রুপি।
এই বিপুল অর্থের উৎস সম্পর্কে তাঁর দাবি—মোট ব্যয়ের ৩০ শতাংশ এসেছে স্পনসরদের কাছ থেকে এবং আরেক ৩০ শতাংশ এসেছে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে।
এদিকে তদন্তের অংশ হিসেবে শতদ্রু দত্তের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে এসআইটি।
সেখানে ২০ কোটিরও বেশি রুপি পাওয়া গেছে। শতদ্রুর দাবি,
এই অর্থ এসেছে কলকাতা ও হায়দরাবাদের ইভেন্টের টিকিট বিক্রি ও স্পনসরশিপ থেকে। তবে তদন্তকারীরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।
গত শুক্রবার তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথিও জব্দ করা হয়েছে।
১৩ ডিসেম্বর সল্টলেক স্টেডিয়ামে মেসিকে একঝলক দেখার আশায় হাজার হাজার দর্শক চড়া দামে টিকিট কিনেছিলেন।
কিন্তু মাঠে নামার পর পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন মানুষ মেসিকে ঘিরে ধরায় গ্যালারি থেকে তাঁকে দেখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
প্রিয় তারকাকে ঠিকমতো দেখতে না পেয়ে দর্শকদের একাংশ ক্ষোভে ফেটে পড়ে।
শুরু হয় ভাঙচুর ও লুটপাট। স্টেডিয়ামের ভেতরে ও বাইরে পুলিশ ও দর্শকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে।
পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্টেডিয়ামে যাওয়ার পথে মাঝপথ থেকেই ফিরে যেতে বাধ্য হন।
এই ঘটনার পর হায়দরাবাদ যাওয়ার সময় বিমানবন্দর থেকে শতদ্রু দত্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।
১৪ ডিসেম্বর তাঁকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। পুরো ঘটনা তদন্তে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সিনিয়র আইপিএস কর্মকর্তা পীযূষ পান্ডে,
জাভেদ শামিম, সুপ্রতিম সরকার ও মুরলীধরের সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করেছে।






















