চবি শিক্ষার্থী-গ্রামবাসী সংঘর্ষে ১ হাজার ৯৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা
  • ১১:২৯ এএম | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | বুধবার
চবি শিক্ষার্থী-গ্রামবাসী সংঘর্ষে ১ হাজার ৯৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের তিন দিন পর হাটহাজারী থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় মোট ১ হাজার ৯৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারীকেও আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাকি এক হাজার জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (নিরাপত্তা) আবদুর রহিম মামলাটি করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, যুবলীগ নেতা হানিফ, তাঁর ভাই ইকবালসহ আরও কয়েকজন পরিকল্পিতভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান।

হামলাকারীরা হাতে থাকা রামদা ও কিরিচ দিয়ে ছাত্র মামুন ও সায়েমকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। নাইমুল নামের আরেক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়। তারা বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। এ হামলায় তিনটি গাড়ি ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়, যাতে প্রায় পাঁচ লাখ ৩৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

যদিও শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল, এক ছাত্রীকে ভাড়া বাসার দারোয়ান মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়, তবে মামলার এজাহারে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে শুধু বলা হয়েছে, দারোয়ানের সঙ্গে ওই ছাত্রীর কথা কাটাকাটি হয়েছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম খান এ বিষয়ে বলেন, “সংঘর্ষের তিন দিন পার হলেও হানিফ ও তাঁর বাহিনীর কাউকে পুলিশ এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি।” এদিকে হাটহাজারী থানার ওসি আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন জানিয়েছেন, “জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”

বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যুবলীগ নেতা হানিফের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে নানা অবৈধ বাণিজ্যে তাঁর বাহিনী জড়িত। সংঘর্ষের পর থেকে তিনি গা-ঢাকা দিলেও তাঁর অনুসারীরা এখনও সক্রিয় রয়েছে।

সংঘর্ষের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তর থেকে প্রায় ১৩০টি রামদা লুট হয়ে যায়, যেগুলো গত বছর ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে জব্দ করা হয়েছিল। এ বিষয়ে গতকাল প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশীয় এসব অস্ত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিরাপত্তা দপ্তরে জমা দিতে হবে।

এদিকে সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফকে নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়। জানা যায়, তিনি ফোকাস বিশ্ববিদ্যালয় কোচিং সেন্টারে ক্লাস নেওয়ার কথা ছিল বুধবার সকাল ৯টায়। ইসলামী ছাত্রশিবির নিয়ন্ত্রিত এ কোচিং সেন্টারের দেওয়ানহাট শাখায় তাঁর ক্লাসের বিষয়ে ফেসবুকে প্রচারণাও চালানো হয়। শিক্ষার্থীদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত ফোকাস কোচিং সেন্টার কর্তৃপক্ষ ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

চবি শিক্ষার্থী-গ্রামবাসী সংঘর্ষে ১ হাজার ৯৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

১১:২৯ এএম | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | বুধবার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের তিন দিন পর হাটহাজারী থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় মোট ১ হাজার ৯৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারীকেও আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাকি এক হাজার জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (নিরাপত্তা) আবদুর রহিম মামলাটি করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, যুবলীগ নেতা হানিফ, তাঁর ভাই ইকবালসহ আরও কয়েকজন পরিকল্পিতভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান।

হামলাকারীরা হাতে থাকা রামদা ও কিরিচ দিয়ে ছাত্র মামুন ও সায়েমকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। নাইমুল নামের আরেক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়। তারা বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। এ হামলায় তিনটি গাড়ি ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়, যাতে প্রায় পাঁচ লাখ ৩৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

যদিও শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল, এক ছাত্রীকে ভাড়া বাসার দারোয়ান মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়, তবে মামলার এজাহারে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে শুধু বলা হয়েছে, দারোয়ানের সঙ্গে ওই ছাত্রীর কথা কাটাকাটি হয়েছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম খান এ বিষয়ে বলেন, “সংঘর্ষের তিন দিন পার হলেও হানিফ ও তাঁর বাহিনীর কাউকে পুলিশ এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি।” এদিকে হাটহাজারী থানার ওসি আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন জানিয়েছেন, “জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”

বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যুবলীগ নেতা হানিফের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে নানা অবৈধ বাণিজ্যে তাঁর বাহিনী জড়িত। সংঘর্ষের পর থেকে তিনি গা-ঢাকা দিলেও তাঁর অনুসারীরা এখনও সক্রিয় রয়েছে।

সংঘর্ষের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তর থেকে প্রায় ১৩০টি রামদা লুট হয়ে যায়, যেগুলো গত বছর ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে জব্দ করা হয়েছিল। এ বিষয়ে গতকাল প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশীয় এসব অস্ত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিরাপত্তা দপ্তরে জমা দিতে হবে।

এদিকে সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফকে নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়। জানা যায়, তিনি ফোকাস বিশ্ববিদ্যালয় কোচিং সেন্টারে ক্লাস নেওয়ার কথা ছিল বুধবার সকাল ৯টায়। ইসলামী ছাত্রশিবির নিয়ন্ত্রিত এ কোচিং সেন্টারের দেওয়ানহাট শাখায় তাঁর ক্লাসের বিষয়ে ফেসবুকে প্রচারণাও চালানো হয়। শিক্ষার্থীদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত ফোকাস কোচিং সেন্টার কর্তৃপক্ষ ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করে।