মার্কিন শুল্কে বাংলাদেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব

- আপডেট সময় ০৪:১৭:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫
- / ৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত রপ্তানিমুখী, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার, যেখানে বছরে প্রায় ৮.৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়।
সম্প্রতি মার্কিন সরকার বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক ১৫% থেকে বাড়িয়ে ৩৭% করেছে। এই শুল্ক বৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রথমত, শুল্ক বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পোশাকের দাম বাড়লে ক্রেতারা ভিয়েতনাম, ভারত বা কম্বোডিয়ার মতো দেশ থেকে সস্তা বিকল্প খুঁজতে পারে। গবেষণা অনুযায়ী, শুল্ক ১% বাড়লে রপ্তানি ০.৫-১.২% কমতে পারে। এতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
দ্বিতীয়ত, পোশাক শিল্পে কর্মসংস্থানে প্রভাব পড়বে। এই খাতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ কাজ করে, যাদের বেশিরভাগ নারী। রপ্তানি কমলে কারখানা বন্ধ হতে পারে বা শ্রমিক ছাঁটাই হতে পারে। এটি শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানকে হুমকির মুখে ফেলবে এবং সামাজিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
তৃতীয়ত, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ বাড়বে। রপ্তানি আয় কমলে আমদানি ব্যয় মেটানো কঠিন হবে, যা টাকার মান কমিয়ে মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে। এছাড়া, বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারাতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করবে।
এই প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে বাজার বৈচিত্র্যকরণ, উৎপাদন খরচ কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক কমানোর চেষ্টা করতে হবে। অন্যথায়, এই শুল্ক বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুতর সংকট তৈরি করতে পারে।