চট্টগ্রামে প্রাইভেট কারে অতর্কিত গুলি, নিহত ২

- আপডেট সময় ১১:১৪:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ মার্চ ২০২৫
- / ১২ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামে বাড়ি ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত গুলিতে প্রাইভেট কারে থাকা দুজন নিহত হয়েছেন এবং আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহতদের দাবি, সম্প্রতি ঢাকায় গ্রেপ্তার হওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদকে ধরিয়ে দেওয়ার প্রতিশোধ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নগরীর বাকলিয়ার চন্দনপুরা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন আব্দুল্লাহ ও মানিক, আর গুলিবিদ্ধ হয়েছেন রবিন ও হৃদয়। চকবাজার থানার ওসি জাহেদুল কবির এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, শনিবার রাতে সরোয়ারের নেতৃত্বে মানিক, হৃদয়, আব্দুল্লাহ, ইমন ও রবিন একটি ভাড়া করা প্রাইভেট কার নিয়ে চট্টগ্রামের শাহ আমানত সেতুর দক্ষিণ পাড়ে বিরিয়ানি খেতে যান। রাত আড়াইটার দিকে ফেরার পথে তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে কয়েকজন দুর্বৃত্ত অতর্কিত গুলি চালায়।
হামলার পর তারা দ্রুত বাকলিয়া এক্সেস রোড দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে, কিন্তু হামলাকারীরা চারটি মোটরসাইকেলে তাদের প্রায় আড়াই কিলোমিটার ধাওয়া করে গুলি চালাতে থাকে। এতে গাড়িতে থাকা আব্দুল্লাহ ও মানিক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। পরে চন্দনপুরায় টহল পুলিশের উপস্থিতি দেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, চন্দনপুরার গুলএজার স্কুলের সামনে মোটরসাইকেলে এসে কয়েকজন দুর্বৃত্ত প্রাইভেট কারের ওপর অতর্কিত গুলি চালায়, যাতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক আহত ব্যক্তি অভিযোগ করেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার প্রতিশোধ নিতে হাসান ও খোকশেদের নেতৃত্বে ১০-১২ জন তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত ও আহতরা ছোট সাজ্জাদের প্রতিপক্ষ, সরোয়ার ও বাবলা গ্রুপের সদস্য। হামলার সময় প্রাইভেট কারে সরোয়ারও ছিল, তবে সে আহত অবস্থায় পালিয়ে গেছে।
ওসি জাহেদুল কবির জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইমনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
গত ১৬ মার্চ ঢাকার বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স থেকে গ্রেপ্তার করা হয় চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদকে। এরপর সাজ্জাদের স্ত্রী ফেসবুক লাইভে এসে স্বামীকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেন।