ফেডারেল আদালতের রায়ে ট্রাম্পের অধিকাংশ শুল্ক অবৈধ, আপিলে যাবেন ট্রাম্প

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
  • ১:৪৩ পিএম | ৩০ আগস্ট ২০২৫ | শনিবার
ফেডারেল আদালতের রায়ে ট্রাম্পের অধিকাংশ শুল্ক অবৈধ, আপিলে যাবেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আপিল আদালত দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধিকাংশ শুল্ক আরোপকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) ঘোষিত এক রায়ে আদালত বলেছেন, শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট (আইইপিএ) আইনের অপব্যবহার করেছেন।

রায়ে আদালত ট্রাম্প প্রশাসনকে বর্ধিত শুল্ক প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ট্রাম্প এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দায়ের করতে পারবেন। ফেডারেল আপিল আদালত ট্রাম্পকে সেই সময় দিয়েছেন এবং আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে এই রায় কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন।

শুক্রবার রায় ঘোষণার শুনানিতে অংশ নেওয়া ফেডারেল আদালতের ১১ জন বিচারকের মধ্যে ৭ জন ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে ‘অবৈধ’ বলে ঘোষণা করেন।

১২৭ পৃষ্ঠার রায়ের সারসংক্ষেপে আদালত বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, শুল্কবিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আরোপের এখতিয়ার কংগ্রেসের (মার্কিন আইন পরিষদ); প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা এক্ষেত্রে সীমিত। আইইপিএ আইনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট কোনো দেশের ওপর শুল্ক আরোপ কিংবা প্রত্যাহার করতে পারলেও, কোন কোন ক্ষেত্রে বা পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট এই আইন প্রয়োগ করবেন, আইনে সেই নির্দেশনা দেওয়া আছে।”

আদালত বলেন, সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্প যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আইইপিএ আইন মানা হয়নি। রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেন, “কোনো দেশের ওপর আইইপিএ আইন প্রয়োগের জন্য কংগ্রেসের সুপারিশ থাকা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এবং তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন আইইপিএ আইনের আওতায় যেসব দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছেন— অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কংগ্রেসের সুপারিশ অনুযায়ী তা হয়নি।”

ফেডারেল আপিল আদালতের রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেন, এই রায় বাস্তবায়ন করা হলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও মার্কিন অর্থনীতিকে ‘ধ্বংস করবে’। তিনি এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করারও ঘোষণা দিয়েছেন।

ট্রাম্প তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আপিল কোর্ট যে রায় দিয়েছে, তাতে সব বিচারকের সম্মতি ছিল না। এটি একটি বিভক্ত এবং বেঠিক রায়। আদালতের এই রায় যদি বাস্তবায়ন হয়, তাহলে আমাদের দেশ এবং জাতীয় অর্থনীতি আক্ষরিক অর্থেই ধ্বংস হয়ে যাবে।” তিনি আরও বলেন, “শুল্ক প্রত্যাহার হলে তা হবে আমাদের দেশের জন্য শতভাগ বিপর্যয়। কিন্তু আমাদেরকে অবশ্যই মনোবল হারালে চলবে না। আমরা এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করব এবং আদালত এটা ভালোভাবেই জানেন যে (চ্যালেঞ্জ করা হলে) যুক্তরাষ্ট্র জিতবে।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনে জিতে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারপর ২ এপ্রিল বিশ্বের অধিকাংশ দেশের ওপর বর্ধিত হারে রপ্তানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন তিনি। বর্ধিত শুল্ক আরোপের কারণ হিসেবে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বিপুল পরিমাণ বাণিজ্য ঘাটতি ও ভারসাম্যহীনতা দূর করতে তিনি এই শুল্কনীতি গ্রহণ করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ফেডারেল আদালতের রায়ে ট্রাম্পের অধিকাংশ শুল্ক অবৈধ, আপিলে যাবেন ট্রাম্প

১:৪৩ পিএম | ৩০ আগস্ট ২০২৫ | শনিবার

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আপিল আদালত দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধিকাংশ শুল্ক আরোপকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) ঘোষিত এক রায়ে আদালত বলেছেন, শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট (আইইপিএ) আইনের অপব্যবহার করেছেন।

রায়ে আদালত ট্রাম্প প্রশাসনকে বর্ধিত শুল্ক প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ট্রাম্প এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দায়ের করতে পারবেন। ফেডারেল আপিল আদালত ট্রাম্পকে সেই সময় দিয়েছেন এবং আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে এই রায় কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন।

শুক্রবার রায় ঘোষণার শুনানিতে অংশ নেওয়া ফেডারেল আদালতের ১১ জন বিচারকের মধ্যে ৭ জন ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে ‘অবৈধ’ বলে ঘোষণা করেন।

১২৭ পৃষ্ঠার রায়ের সারসংক্ষেপে আদালত বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, শুল্কবিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আরোপের এখতিয়ার কংগ্রেসের (মার্কিন আইন পরিষদ); প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা এক্ষেত্রে সীমিত। আইইপিএ আইনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট কোনো দেশের ওপর শুল্ক আরোপ কিংবা প্রত্যাহার করতে পারলেও, কোন কোন ক্ষেত্রে বা পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট এই আইন প্রয়োগ করবেন, আইনে সেই নির্দেশনা দেওয়া আছে।”

আদালত বলেন, সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্প যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আইইপিএ আইন মানা হয়নি। রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেন, “কোনো দেশের ওপর আইইপিএ আইন প্রয়োগের জন্য কংগ্রেসের সুপারিশ থাকা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এবং তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন আইইপিএ আইনের আওতায় যেসব দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছেন— অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কংগ্রেসের সুপারিশ অনুযায়ী তা হয়নি।”

ফেডারেল আপিল আদালতের রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেন, এই রায় বাস্তবায়ন করা হলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও মার্কিন অর্থনীতিকে ‘ধ্বংস করবে’। তিনি এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করারও ঘোষণা দিয়েছেন।

ট্রাম্প তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আপিল কোর্ট যে রায় দিয়েছে, তাতে সব বিচারকের সম্মতি ছিল না। এটি একটি বিভক্ত এবং বেঠিক রায়। আদালতের এই রায় যদি বাস্তবায়ন হয়, তাহলে আমাদের দেশ এবং জাতীয় অর্থনীতি আক্ষরিক অর্থেই ধ্বংস হয়ে যাবে।” তিনি আরও বলেন, “শুল্ক প্রত্যাহার হলে তা হবে আমাদের দেশের জন্য শতভাগ বিপর্যয়। কিন্তু আমাদেরকে অবশ্যই মনোবল হারালে চলবে না। আমরা এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করব এবং আদালত এটা ভালোভাবেই জানেন যে (চ্যালেঞ্জ করা হলে) যুক্তরাষ্ট্র জিতবে।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনে জিতে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারপর ২ এপ্রিল বিশ্বের অধিকাংশ দেশের ওপর বর্ধিত হারে রপ্তানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন তিনি। বর্ধিত শুল্ক আরোপের কারণ হিসেবে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বিপুল পরিমাণ বাণিজ্য ঘাটতি ও ভারসাম্যহীনতা দূর করতে তিনি এই শুল্কনীতি গ্রহণ করেছেন।