০৩:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫

তিন জেলায় চার শিশু ধর্ষণের শিকার: ঢাকা, ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জে ঘটনা

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৩:৪৬:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫
  • / ৫ বার পড়া হয়েছে

রাজধানী ঢাকার দারুসসালাম ও মুগদা, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরবে চার শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে এবং মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দারুসসালামে এক শিশু (১৪) ধর্ষণের শিকার হয়। তার বাবা জানান, শাহআলী এলাকায় বসবাসকারী এই শিশু একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে। সোমবার দুপুরে মেহেদী হাসান নামে এক যুবক তাকে বোনের বাসায় বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে সঙ্গে নিয়ে যায়।

পরে কৌশলে একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। ঘটনার পর শিশুটি বাসায় ফিরে পরিবারকে জানালে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দারুসসালাম থানার ওসি রকিব উল হাসান জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামি অভিযোগ স্বীকার করেছে।

মুগদার মানিকনগরে আরেক শিশু (১২) ধর্ষণের শিকার হয়। গত ২৮ মার্চ সাগর নামে একজন তাকে কৌশলে ভাড়া বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করে। মঙ্গলবার শিশুটির বাবা মুগদা থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ সাগরকে গ্রেপ্তার করে।

বুধবার শিশুটিকে ঢামেক হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয় এবং পরে ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। মুগদা থানার এসআই শাফায়েত মুকুল জানান, আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় এক শিশু (১০) শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়। অভিযুক্ত মো. দুলাল মিয়া (৩০) ঈদের দিন তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে যৌন নির্যাতন করে। মঙ্গলবার সকালে অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগের পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। উত্তেজিত জনতা দুলালের বাড়ি ভাঙচুর করে এবং তাকে পালাতে সহায়তাকারী মজিদকে মারধর করে। মুক্তাগাছা থানার ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে এক ছেলে শিশু (৬) দুই কিশোরের হাতে ধর্ষণের শিকার হয়। সোমবার রাতে মেঘনা নদীর পারে এ ঘটনা ঘটে। শিশুটির চিৎকারে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরদিন তাকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং পরে কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ভৈরব থানার ওসি খন্দকার ফুয়াদ রুহানী জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের বয়স কম হওয়ায় তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

তিন জেলায় চার শিশু ধর্ষণের শিকার: ঢাকা, ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জে ঘটনা

আপডেট সময় ০৩:৪৬:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫

রাজধানী ঢাকার দারুসসালাম ও মুগদা, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরবে চার শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে এবং মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দারুসসালামে এক শিশু (১৪) ধর্ষণের শিকার হয়। তার বাবা জানান, শাহআলী এলাকায় বসবাসকারী এই শিশু একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে। সোমবার দুপুরে মেহেদী হাসান নামে এক যুবক তাকে বোনের বাসায় বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে সঙ্গে নিয়ে যায়।

পরে কৌশলে একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। ঘটনার পর শিশুটি বাসায় ফিরে পরিবারকে জানালে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দারুসসালাম থানার ওসি রকিব উল হাসান জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামি অভিযোগ স্বীকার করেছে।

মুগদার মানিকনগরে আরেক শিশু (১২) ধর্ষণের শিকার হয়। গত ২৮ মার্চ সাগর নামে একজন তাকে কৌশলে ভাড়া বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করে। মঙ্গলবার শিশুটির বাবা মুগদা থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ সাগরকে গ্রেপ্তার করে।

বুধবার শিশুটিকে ঢামেক হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয় এবং পরে ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। মুগদা থানার এসআই শাফায়েত মুকুল জানান, আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় এক শিশু (১০) শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়। অভিযুক্ত মো. দুলাল মিয়া (৩০) ঈদের দিন তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে যৌন নির্যাতন করে। মঙ্গলবার সকালে অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগের পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। উত্তেজিত জনতা দুলালের বাড়ি ভাঙচুর করে এবং তাকে পালাতে সহায়তাকারী মজিদকে মারধর করে। মুক্তাগাছা থানার ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে এক ছেলে শিশু (৬) দুই কিশোরের হাতে ধর্ষণের শিকার হয়। সোমবার রাতে মেঘনা নদীর পারে এ ঘটনা ঘটে। শিশুটির চিৎকারে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরদিন তাকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং পরে কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ভৈরব থানার ওসি খন্দকার ফুয়াদ রুহানী জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের বয়স কম হওয়ায় তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।