আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাতের গুরুত্ব ও সুন্নত

- আপডেট সময় ১১:০১:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫
- / ৫ বার পড়া হয়েছে
ঈদের সময় আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া মুসলিম সমাজে একটি প্রিয় ঐতিহ্য। সারা বছর যাদের সঙ্গে দেখা হয় না, ঈদে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপিত হয় এবং পরস্পরের বাড়িতে আগমন ঘটে। এর মাধ্যমে আত্মীয়তার বন্ধন মজবুত হয় এবং একে অপরের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হওয়া যায়।
ইসলামে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে পারস্পরিক সাক্ষাৎ একটি প্রশংসিত কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে মুমিন মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করে এবং তাদের কষ্টে ধৈর্য ধরে, সে তার চেয়ে বেশি সওয়াব পায়, যে মানুষের সঙ্গে মিশে না এবং তাদের কষ্টে ধৈর্য ধরে না।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪৪৩২)
সাক্ষাতের বিধান
আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ সাধারণত মুস্তাহাব, তা তারা সুখে থাকুক বা দুঃখে, সুস্থ থাকুক বা অসুস্থ। মহানবী (সা.) বলেছেন, “যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য অসুস্থ ব্যক্তি বা ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, ফেরেশতা তাকে ডেকে বলে, ‘তোমার জীবন কল্যাণময়, তোমার পথচলা কল্যাণময়। তুমি জান্নাতে একটি স্থান নির্ধারণ করলে।’” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২০০৮)
কেন যাবেন?
মুমিন আত্মীয়দের বাড়িতে যান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার জন্য। হাদিসে এসেছে, “যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, ফেরেশতা তাকে সুসংবাদ দেয় যে, ‘আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসেন, যেমন তুমি তাঁর সন্তুষ্টির জন্য ভাইকে ভালোবেসেছ।’” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৪৪৩)
যখন সাক্ষাৎ আবশ্যক
সাধারণ সময়ে সাক্ষাৎ মুস্তাহাব হলেও কিছু ক্ষেত্রে তা ওয়াজিব হয়ে পড়ে:
১. মা-বাবার সঙ্গে: তাদের সঙ্গে যোগাযোগ, নিয়মিত সাক্ষাৎ ও খোঁজ-খবর রাখা সন্তানের কর্তব্য, বিশেষ করে বার্ধক্যে বা অক্ষম অবস্থায়। কোরআনে বলা হয়েছে, “মা-বাবার প্রতি সদ্ব্যবহার করো।” (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত: ২৩)
২. আত্মীয়তা ছিন্নের আশঙ্কা: সম্পর্ক রক্ষার জন্য সাক্ষাৎ আবশ্যক। রাসুল (সা.) বলেন, “যে আত্মীয়তা রক্ষা করে, আমি তার সঙ্গে সম্পর্ক রাখি।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৮৭)
৩. অসুস্থতায়: অসুস্থ আত্মীয়ের খোঁজ নেওয়া মুমিনের দায়িত্ব। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৬৯)
৪. বিপদে বা মৃত্যুতে: বিপদগ্রস্ত বা মৃত ব্যক্তির পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়া জরুরি। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৬০১)
সতর্কতা
- দীর্ঘ অবস্থান নয়: বিনা প্রয়োজনে সাক্ষাৎ দীর্ঘ না করাই উত্তম। (সুরা আহজাব, আয়াত: ৫৩)
- পর্দা মানা: পর্দার বিধান লঙ্ঘন থেকে সাবধান থাকুন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৫৬৭)
- উপহার: উপহার নেওয়া উত্তম, তবে সাধ্যের মধ্যে আন্তরিকতা প্রকাশ করুন।
আত্মীয়দের সঙ্গে সাক্ষাৎ শুধু সম্পর্কই নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টিও অর্জন করে।